প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়াই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে ‘ডাইরেক্ট লিস্টিং’ বিধিমালার খসড়া অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
একই সঙ্গে আর্থিক ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মপরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে কমিশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডিএসইতে ইনডেক্স ফিউচার চালুর মাধ্যমে আর্থিক ডেরিভেটিভসের আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হতে পারে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ বাই স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, বিধিমালাটি শিগগির জনমত যাচাইয়ের জন্য পত্রিকায় এবং বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন শেয়ারের অন্তত ১০ থেকে ২০ শতাংশ অফলোডের মাধ্যমে কোনো কোম্পানি আইপিও ছাড়াই স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে।
আরও পড়ুন
বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে: জাহেদ উর রহমান
বিধিমালায় ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির কোম্পানিকে সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি এবং পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন কোম্পানি। এছাড়া বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানিও এ সুযোগ পেতে পারে।
এছাড়া কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনসম্পন্ন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অনুমোদিত টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী, আইসিটি অবকাঠামো বা উৎপাদনকারী কোম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কমপক্ষে তিন বছর কার্যক্রম পরিচালনাকারী তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানি এবং কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদ রয়েছে এমন কোম্পানিও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ডাইরেক্ট লিস্টিং করতে পারবে। এছাড়া কমিশনে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি ও সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টির ক্ষেত্রে নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
এদিকে ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানির স্পনসর বা পরিচালকদের শেয়ার লেনদেন ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও কিছুটা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের ২০ মে ২০২৪ সালের এক নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট বিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশোধন অনুযায়ী, ঋণখেলাপির কারণে শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা এবং কোনো শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর পর শেয়ার উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমোদন আর প্রয়োজন হবে না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জগুলো তাদের প্রযোজ্য তালিকাভুক্তি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
আরও পড়ুন
৫০ টাকার নিচে মিলছে মাত্র ২ ধরনের সবজি
বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পাঠানোর ক্ষেত্রেও নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছে কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত বা অনুমোদিত লভ্যাংশ পাঠাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাভয়ডেন্স (ডিটিএ) সনদ পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের মধ্যেই লভ্যাংশ পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাথমিক লভ্যাংশ কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পাঠানোর ৩০ দিনের মধ্যে ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট কমিশন ও সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে।
দেশের পুঁজিবাজারে নতুন আর্থিক পণ্য চালুর উদ্যোগ হিসেবে ডিএসইর ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস চালুর কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে বিএসইসি। কর্মপরিকল্পনায় নিয়ন্ত্রক উদ্যোগ, ট্রেডিং সিস্টেমের উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডিএসই কর্মপরিকল্পনাটি যথাযথ বাস্তবায়ন করছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে বিএসইসি। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ডেরিভেটিভস পণ্য হিসেবে ইনডেক্স ফিউচার চালুর মাধ্যমে লেনদেন শুরু হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডিএসইতে ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস পণ্যের আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হওয়ার আশা করছে কমিশন।
এমএএস/কেএসআর