চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের বর্তমানে চালু থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বা বিশেষ ইনক্রিমেন্ট বাতিল হয়ে যাবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতনস্কেলে প্রারম্ভিক মূল বেতন গ্রেডভেদে ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ পাচ্ছেন। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হলে এই বিশেষ সুবিধা আর বহাল থাকবে না।
১ম থেকে ৯ম গ্রেড
১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নতুন বর্ধিত মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে প্রথম ধাপে নতুন বেতনের ৪০ শতাংশ, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে। অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাই থেকে তারা নতুন বেতনের শতভাগ পাবেন।
এই গ্রেডের কর্মচারীরা নতুন হারে সব ধরনের ভাতা পাবেন ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে অগ্রাধিকার
স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এসব গ্রেডের ক্ষেত্রে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। ফলে ২০২৭ সালের জুলাই থেকে তারা নতুন বেতনের পুরো ১০০ শতাংশ পাবেন।
এ গ্রেডগুলোর কর্মচারীরাও নতুন হারে সব ভাতা পাবেন ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
কোন গ্রেডে কত বেতন
নতুন বেতনস্কেলে ১ম থেকে ১১তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ করে বাড়ানো হয়েছে। ১২তম গ্রেড থেকে বৃদ্ধির হার আরও বেশি। ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ।
১ম গ্রেড: ৭৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৫৬,০০০ টাকা।২য় গ্রেড: ৬৬,০০০–৭৬,৪৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০ টাকা।৩য় গ্রেড: ৫৬,৫০০–৯৮,৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০ টাকা।৪র্থ গ্রেড: ৫০,০০০–৯১,২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,০০,০০০–১,৪২,৪০০ টাকা।৫ম গ্রেড: ৪৩,০০০–৬৯,৮৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০ টাকা।৬ষ্ঠ গ্রেড: ৩৫,৫০০–৬৭,০১০ টাকা থেকে বেড়ে ৭১,০০০–১,৩৪,০০০ টাকা।৭ম গ্রেড: ২৯,০০০–৬৩,৪১০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৮,০০০–১,১২,৮০০ টাকা।৮ম গ্রেড: ২৩,০০০–৫৫,৪৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬,০০০–১,১০,৮০০ টাকা।৯ম গ্রেড: ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৪,০০০–১,০৫,৯০০ টাকা।১০ম গ্রেড: ১৬,০০০–৩৮,৬৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২,০০০–৭৭,৩০০ টাকা।১১তম গ্রেড: ১২,৫০০–৩০,২৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫,০০০–৬০,৫০০ টাকা।
১২তম গ্রেড থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার আরও বেশি। ১২তম গ্রেডে ১১৫ শতাংশ, ১৩তম গ্রেডে ১১৮ শতাংশ এবং ১৪তম গ্রেডে ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
১২তম গ্রেড: ১১,৩০০–২৭,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪,০০০–৫৮,৭০০ টাকা।১৩তম গ্রেড: ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা।১৪তম গ্রেড: ১০,২০০–২৪,৬৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২০,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা।১৫তম গ্রেড: ৯,৭০০–২৩,৪৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২২,৮০০–৫৫,২০০ টাকা।১৬তম গ্রেড: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা।১৭তম গ্রেড: ৯,০০০–২১,৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১,৪০০–৫১,৯০০ টাকা।১৮তম গ্রেড: ৮,৮০০–২১,৩১০ টাকা থেকে বেড়ে ২১,০০০–৫০,৯০০ টাকা।১৯তম গ্রেড: ৮,৫০০–২০,৫৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২০,৫০০–৪৯,৬০০ টাকা।২০তম গ্রেড: ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা থেকে বেড়ে ২০,০০০–৪৮,৮০০ টাকা।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১৫তম ও ১৬তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৩৫ শতাংশ, ১৭তম গ্রেডে ১৩৮ শতাংশ, ১৮তম গ্রেডে ১৩৯ শতাংশ, ১৯তম গ্রেডে ১৪১ শতাংশ এবং ২০তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। তবে এর সঙ্গে বর্তমানে চালু থাকা ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হওয়ায় মোট বেতন-ভাতার হিসাবেও পরিবর্তন আসবে।