ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে জর্ডানের আকাবা উপকূলে অবস্থিত মার্কিন মেরিন সেনাদের ঘাঁটি ‘ক্যাম্প তিবতিন’-এ ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এটি ইরানের পাল্টা অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও হামলাকারী হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। ওই বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইরানি সূত্রগুলোর সর্বশেষ হিসাবে, ওই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০ থেকে ৬৩ জন। তবে বিভিন্ন সূত্রে হতাহতের সংখ্যায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ‘পরাজিত’ বলে দাবি করে বলেছে, তারা সরাসরি ইরানি বাহিনীর মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করলেও মার্কিন কর্মকর্তারা মার্কিন সেনাদের হতাহতের এই দাবি অস্বীকার করেছেন।
নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক স্থবিরতার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আবারও তীব্র আকার নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের আইআরজিসির বিমান প্রতিরক্ষা, রাডার, সামুদ্রিক সরঞ্জাম, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ও যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।