লেস্টার সিটি থেকে স্থায়ী চুক্তিতে শেফিল্ড ইউনাইটেডে ফেরার পরদিন রাতটি স্মরণীয় করে রাখলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইংলিশ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের রোমাঞ্চকর ম্যাচে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চলতি মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে শেফিল্ড।
এবারের মৌসুমে চতুর্থ ম্যাচে এটাই শেফিল্ডের প্রথম জয়। আগের তিন ম্যাচে না হারলেও জয়ের মুখ দেখেনি ক্লাবটি। এদিন পুরো ম্যাচের ৫৩ শতাংশ বল নিজেদের অধীনে রেখে গোলবারে মোট ২০টি শট নিয়েছে শেফিল্ড। অপরদিকে ৪৭ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে বোল্টনের ফুটবলাররা নেন ২১টি শট।
ঘরের মাঠ ব্র্যামল লেনে শুরুর একাদশেই নামানো হয় হামজাকে। তবে ম্যাচের শুরুটা স্বাগতিকদের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই বোল্টন উইঙ্গার থিয়েরি গ্যালেকে সামলাতে গিয়ে ব্যর্থ হন রাইট ব্যাক পজিশনে খেলা হামজা। সেই আক্রমণ থেকেই শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত জাভিয়ার সিমন্সের গোলে এগিয়ে যায় বোল্টন।
তবে পিছিয়ে পড়েও দ্রুতই ম্যাচে সমতা ফেরায় শেফিল্ড। ৪ মিনিটে জাফেট ট্যানগ্যাঙ্গা গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। ১-১ সমতায় বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও চলে সমান তালে লড়াই। ৬৭ মিনিটে স্যাম ডাল্বি ফের বোল্টনকে এগিয়ে নেন। কিন্তু এক মিনিট পর প্যাট্রিক ব্যামফোর্ডের লক্ষ্যভেদে ম্যাচে ২-২ ব্যবধানে সমতা আনে শেফিল্ড।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৩ মিনিট) দারুণ এক নাটকের জন্ম দেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রোমেল ডোনোভান। তার জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানের উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো ব্র্যামল লেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার এই ম্যাচে পারফরম্যান্সের রেটিংয়ে হামজাকে দশে পাঁচ নম্বর দিয়েছে। কারণ, বিরতির আগে গোলের বড় এক সুযোগও নষ্ট করেন রাইট ব্যাক পজিশনে খেলা হামজা। সংবাদমাধ্যমটির ভাষায়, ‘ম্যাচে একেবারেই থিতু হতে পারেননি, আর রাইটব্যাক পজিশনেও তাকে স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি।’
ম্যাচ জয়ের পর হামজা বলেন, ‘ব্র্যামল লেনে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। অবশ্যই বড় সাফল্য, যদিও কাজটা কঠিন ছিল। প্রথম মিনিটেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যাটা আমরা শুরু করতে চাইনি। কিন্তু সতীর্থরা সাহসের সঙ্গে খেলায় ফিরেছে...এ স্টেডিয়ামটি বিশেষ, এখানকার দর্শকও বিশেষ।’
লেস্টার সিটিতে ২১ বছর কাটানোর পর গত ৩১ আগস্ট স্থায়ীভাবে শেফিল্ডে যোগ দেন হামজা। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বিভাগের এই ক্লাবটিতে গত মৌসুমে ধারে গিয়ে ১৯ ম্যাচ খেলেন তিনি। দলকে প্লে-অফ ফাইনালে তুলতেও তার অবদান ছিল। ফাইনালে সান্দারল্যান্ডের কাছে হেরে প্রিমিয়ার লিগে আর ফেরা হয়নি শেফিল্ডের।