চীনের ফুচিয়ান প্রদেশের সানমিং শহরে বসবাসের সুবাদে শহরটির সঙ্গে আমার এক ধরনের আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। পাহাড়ঘেরা এই শহরে যতবারই বের হই, ততবারই নতুন কোনো দৃশ্য, নতুন কোনো গল্প কিংবা নতুন কোনো মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। সানমিংয়ের সৌন্দর্য শুধু তার পাহাড়-নদী আর সবুজ প্রকৃতিতে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানেও।
শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে গেলেই যে নির্মল প্রকৃতি পাওয়া যায়, তা নয়; শহরের বুকের মধ্যেই ছড়িয়ে আছে সবুজের অনেক ছোট ছোট আশ্রয়।
এই শহরের এমনই এক সবুজ ঠিকানা ছিলিন মাউন্টেন পার্ক তেমনই একটি জায়গা। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি শুধু একটি পার্ক নয়; এটি শহরের স্মৃতি, অবসর, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক পরিচিত নাম। সানমিংয়ের মানুষের কয়েক প্রজন্মের বেড়ে ওঠা, আনন্দ আর পারিবারিক স্মৃতির সঙ্গে এই পাহাড়ের সম্পর্ক রয়েছে।
এক বিকেলে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এসে জানাল, তারা একটি শর্ট ভিডিও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে। ভিডিওটির জন্য তারা আমাকে মেন্টর হিসেবে পাশে চায়। প্রস্তাবটি শুনে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহী হয়ে উঠলাম। জানতে চাইলাম, ভিডিওটি কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি করতে চায় তারা।
শিক্ষার্থীটি বলল, ‘ছিলিন পাহাড়।’ নামটি শুনেই কৌতূহল বেড়ে গেল। জানতে চাইলাম, ‘ছিলিন পাহাড়ে এমন কী আছে?’
সে মৃদু হেসে বলল, ‘লাওশি (শিক্ষক), সেখানে সবই আছে—পাহাড় আছে, গাছপালা আছে, ইতিহাস আছে, মানুষের গল্প আছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, সেখানে গেলে শহরটাকে অন্যভাবে দেখা যায়।’
কথাটি আমার মনে দাগ কাটল। একটি পাহাড় কীভাবে একটি শহরকে ‘অন্যভাবে’ দেখাতে পারে—এই প্রশ্নই যেন মনে কৌতূহলের নতুন দরজা খুলে দিল।
ছিলিন পাহাড় থেকে শহরের মনোরম দৃশ্য, ছবি: লেখক
কথা প্রসঙ্গে সে জানাল, পরের সপ্তাহেই তারা ছিলিন পাহাড়ে যাবে ভিডিও শুট করতে। আমাকেও সঙ্গে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করল। শুধু মেন্টর হিসেবে নয়, তাদের গাইড হিসেবেও পাশে থাকতে বলল। তাদের আগ্রহ ও আন্তরিকতায় রাজি হয়ে গেলাম।
নির্ধারিত দিন এলো। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা ছিলিন পাহাড়ের উদ্দেশে রওনা দিলাম। জায়গাটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খুব বেশি দূরে নয়। তাই পথটুকুও ছিল বেশ স্বচ্ছন্দ। তবে আমার কাছে এই যাত্রার বিশেষত্ব ছিল অন্য জায়গায়—এবার আমি শুধু একজন দর্শনার্থী হিসেবে যাচ্ছিলাম না; কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থীর চোখ দিয়ে একটি পরিচিত শহরকে নতুন করে আবিষ্কার করার উদ্দেশ্যেও যাচ্ছিলাম।
শহরের খুব কাছেই হলেও প্রবেশের পর যেন অন্য এক পরিবেশ। ব্যস্ত রাস্তার শব্দ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। চারপাশে শুধু সবুজ। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠে গেছে হাঁটার পথ। কোথাও শিশুদের হাসি, কোথাও বয়স্ক মানুষের গল্প, কোথাও তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যস্ততা। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে বিকেলের আলো এসে পড়ছে পথের ওপর।
মনে হলো, আধুনিক শহরের মাঝখানে প্রকৃতি যেন নিজের জন্য একটি ঘর বানিয়ে রেখেছে।
ছিলিন মাউন্টেন পার্কের আয়তন প্রায় ৪২.২৪ হেক্টর। এর নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে এবং ১৯৮১ সালে এটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। আজ এটি শুধু সানমিং শহরের একটি পরিচিত বিনোদনকেন্দ্র নয়, পুরো অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ল্যান্ডমার্ক।
আরও পড়ুন
নাটকের অবসান হবে কবে?
তবে পাহাড়টির গল্প আরও পুরোনো। ১৯৮০ সালের স্থাননাম জরিপের সময় গবেষকরা পাহাড়ের ঢালে একটি প্রাচীন সমাধির ওপর পাথরের ফলক আবিষ্কার করেন। সেখানে ‘কনফুসিয়াস প্লেয়িং উইথ ছিলিন’—অর্থাৎ কনফুসিয়াস ছিলিনের সঙ্গে খেলছেন—এমন একটি শিলালিপি পাওয়া যায়। সেই আবিষ্কারের সূত্র ধরেই পাহাড়টির নাম হয় ছিলিন মাউন্টেন।
পাহাড়ের পথে হাঁটতে হাঁটতে শিক্ষার্থীদের বললাম, ‘একটি পাথরের ফলকই তাহলে এই পাহাড়ের নামের সঙ্গে জড়িয়ে গেল?’
ছিলিন পাহাড়ে লেখকের সাথে ছবি তুলতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা, ছবি: লেখক
তারা বলল, ‘চীনে ইতিহাসের অনেক গল্প এভাবেই বেঁচে থাকে। কখনো একটি পাথর, কখনো একটি পুরোনো গাছ, কখনো একটি ছোট্ট স্থাপনা—এসবই অতীতকে বর্তমানের সঙ্গে যুক্ত করে।’
কথাটি শুনে পাহাড়ের চারপাশটা যেন নতুন চোখে দেখতে শুরু করলাম।
পথের এক পাশে দেখা গেল ছিলিন প্যাভিলিয়ন। একটু দূরে কেবল কার। আরও সামনে ‘ড্রাগন প্লেয়িং ইন ওয়াটার’, গার্ডেন উইদিন আ গার্ডেন, রেইনবো ব্রিজ ও অ্যাডভেঞ্চার সিটির মতো বিভিন্ন আকর্ষণ। শিশুদের জন্য যেমন বিনোদনের ব্যবস্থা আছে, তেমনি যারা শুধু প্রকৃতির মধ্যে একটু সময় কাটাতে চান, তাদের জন্যও রয়েছে শান্ত হাঁটার পথ।
কিন্তু পাহাড়ের গায়ে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী প্যাভিলিয়নগুলোই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। হাওরান প্যাভিলিয়ন, চুয়ুন প্যাভিলিয়ন, সানইউয়ান প্যাভিলিয়ন, লিয়ানহুয়া প্যাভিলিয়ন, ফেইশি প্যাভিলিয়ন, ইশান প্যাভিলিয়ন, ইয়াংঝি প্যাভিলিয়ন, ঝুশিউ প্যাভিলিয়ন ও দংওয়াং প্যাভিলিয়ন—প্রতিটি যেন পাহাড়ের শরীরে আঁকা আলাদা আলাদা ছবি।
কোনোটির আকৃতি তিন কোণা, কোনোটির ছয় কোণা, আবার কোনোটি বর্গাকার। ছাদের কিনারা ওপরে উঠে গেছে, কাঠের কারুকাজে ফুটে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী চীনা স্থাপত্যের সৌন্দর্য। সবুজ গাছপালার মধ্যে এসব প্যাভিলিয়ন দেখে মনে হয়, প্রকৃতি আর স্থাপত্য এখানে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং একে অপরকে আরও সুন্দর করে তুলেছে।
প্যাভিলিয়নের বিভিন্ন স্থানে সমকালীন চীনা ক্যালিগ্রাফারদের লেখা শিলালিপিও রয়েছে। প্যান ঝুলান, লুও দান ও ছু তুনানের মতো ক্যালিগ্রাফারদের কাজ এই পাহাড়কে শুধু একটি প্রাকৃতিক স্থান হিসেবে নয়, সাংস্কৃতিক স্থান হিসেবেও সমৃদ্ধ করেছে।
ছিলিন পাহাড়ে ছিলিন প্যাভিলিয়নের অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য, ছবি: লেখক
একটি প্যাভিলিয়নে কিছুক্ষণ বসে নিচের দিকে তাকালাম। সানমিং শহর যেন পাহাড়ের পায়ের কাছে ছোট হয়ে গেছে। দূরে ভবন, তার মাঝখানে গাছের সারি, কোথাও রাস্তা দিয়ে ছুটে চলছে গাড়ি। ওপর থেকে শহরটিকে দেখে মনে হলো, উন্নয়ন আর প্রকৃতি এখানে পাশাপাশি এগিয়ে চলেছে।
হাঁটতে হাঁটতে ৫৪৩ ধাপের সেই পথের কথাও জানতে পারলাম। ১৯৮৪ সালে সানমিংয়ে ‘ফাইভ এমফাসিস, ফোর ভার্চুজ, অ্যান্ড থ্রি লাভস’ বা ‘পাঁচটি গুরুত্ব, চারটি নৈতিক গুণ ও তিনটি ভালোবাসা’ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনের স্মৃতি ধরে রাখতে ছিলিন মাউন্টেন পার্কের সামনে এই ৫৪৩ ধাপের সড়ক নির্মাণ করা হয়। দুই পাশে লাগানো হয় ওসমানথাস গাছ।
সময় অবশ্য থেমে থাকেনি। ১৯৯০-এর দশকজুড়ে পাহাড়ে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো এবং সবুজায়নের কাজ চলেছে। বছরের পর বছর পরিচর্যার ফলে আজ পাহাড়টি আরও সবুজ, আরও সমৃদ্ধ। বসন্তে নতুন পাতা, গ্রীষ্মে ঘন সবুজ, শরতে নরম আলো আর শীতে অন্যরকম নীরবতা—প্রতিটি ঋতুতে ছিলিন পাহাড়ের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে।
পাহাড়ে হাঁটার সময় একটি জায়গায় এসে থমকে দাঁড়ালাম। সামনে ‘সানমিং পিপলস হিরোজ মনুমেন্ট’। ২০০১ সালে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভ বিপ্লবী সংগ্রাম এবং দেশের শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে জীবন উৎসর্গকারী মানুষদের স্মরণে তৈরি করা হয়েছে।
স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে চারপাশের পরিবেশ হঠাৎ যেন শান্ত হয়ে গেল। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে শিশুদের হাসি শুনছিলাম, সেখানে এসে মনে হলো ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। একটি শহর তার আনন্দের জায়গার মধ্যেও কীভাবে তার অতীতকে সংরক্ষণ করে রাখতে পারে, এই স্মৃতিস্তম্ভ তারই উদাহরণ।
ছিলিন পাহাড়ের সঙ্গে সানমিংয়ের মানুষের সম্পর্ক অবশ্য শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। এই সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে উৎসব, আনন্দ আর বহু প্রজন্মের স্মৃতি।
১৯৮০ সালের মধ্য-শরৎ উৎসবের একটি ঘটনা স্থানীয় ইতিহাসে এখনও স্মরণীয়। সেবার শহরের ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ছিলিন মাউন্টেন পার্কে এসেছিলেন। কেউ এসেছিলেন লণ্ঠন দেখতে, কেউ পূর্ণিমার চাঁদ উপভোগ করতে, কেউ গান ও নাচের অনুষ্ঠান দেখতে।
ভাবছিলাম, সেই রাতে পাহাড়টি কেমন ছিল! হাজার হাজার মানুষের পদচারণা, লণ্ঠনের আলো, আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ আর চারপাশে উৎসবের আবহ—নিশ্চয়ই দৃশ্যটি অসাধারণ ছিল।
আজও বিকেল হলে পার্কে মানুষের ভিড় বাড়ে। কেউ স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য হাঁটেন, কেউ পাহাড়ে উঠে ব্যায়াম করেন। কেউ পরিবারের সঙ্গে বসে গল্প করেন। শিশুরা দৌড়ায়, তরুণরা ছবি তোলে। বয়স্কদের অনেককে দেখলাম ধীরে ধীরে হাঁটছেন, তারপর কোনো প্যাভিলিয়নের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
ছিলিন পাহাড়ের বুক চিরে জেগে ওঠা ফুল বাগানের দৃশ্য, ছবি: লেখক
একজন বয়স্ক মানুষকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আপনি কি নিয়মিত এখানে আসেন?’ তিনি মৃদু হেসে বললেন, ‘অনেক বছর ধরে। যখন ছোট ছিলাম, তখনও আসতাম। এখন আমার নাতি-নাতনিরাও আসে।’ তার কথার মধ্যে যেন ছিলিন পাহাড়ের পুরো গল্পটি লুকিয়ে ছিল।
একটি পার্ক তখন আর শুধু পার্ক থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে মানুষের জীবনের অংশ।
ছিলিন মাউন্টেন পার্কের পরিবেশগত গুরুত্বও রয়েছে। ৪২.২৪ হেক্টরের এই সবুজ এলাকা শহরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। গাছপালা বাতাসকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে, শহরের উষ্ণতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে এবং নানা ধরনের পাখি ও ছোট প্রাণীর জন্য আশ্রয় তৈরি করে। আধুনিক শহরে এমন সবুজ জায়গার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
আমার কাছে ছিলিন পাহাড়ের সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় ছিল এর সহজলভ্যতা। প্রকৃতির কাছে যেতে শহর ছেড়ে অনেক দূরে যেতে হয় না। শহরের বাসিন্দাদের জন্য এটি যেন হাতের কাছে একটি ‘অক্সিজেন বার’। কয়েক মিনিট হাঁটলেই কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে গাছের ছায়ায় বসা যায়।
সন্ধ্যা তখন ঘনিয়ে এসেছে। পাহাড়ের গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের শেষ আলো এসে পড়ছে। বাতাসে ওসমানথাস গাছের মৃদু সুবাস। নিচের শহরে একে একে আলো জ্বলছে।
ফেরার পথে শিক্ষার্থীদের বললাম, ‘এখন বুঝতে পারছি, তোমরা কেন বলেছিলেন এখানে এলে সানমিংকে অন্যভাবে দেখা যায়।’
তারা হেসে বলল, ‘সানমিংকে শুধু শহর হিসেবে দেখলে অনেক কিছুই দেখা হয় না। পাহাড়ে উঠলে শহরের মনটা দেখা যায়।’
কথাটি মনে গেঁথে গেল।
সত্যিই তো—একটি শহরকে জানতে হলে শুধু তার রাস্তা, ভবন, শিল্প কিংবা বাজার দেখলেই হয় না। দেখতে হয় তার মানুষের হাঁটার পথ, বিশ্রামের জায়গা, উৎসবের স্মৃতি এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক।
ছিলিন মাউন্টেন পার্ক সেই অর্থে সানমিংয়ের একটি জীবন্ত গল্প। এখানে প্রকৃতি আছে, ইতিহাস আছে, সংস্কৃতি আছে, আবার আছে মানুষের প্রতিদিনের জীবন। এখানে কেউ আসে শরীরচর্চা করতে, কেউ পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে, কেউ পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে, আবার কেউ আমার মতো নতুন চোখে একটি শহরকে দেখতে।
ছিলিন পাহাড়ে চীনা শিশু ও নাগরিকদের সাথে লেখক, ছবি: লেখক
পাহাড় থেকে নামার সময় শেষবারের মতো পেছনে তাকালাম। অন্ধকারে পাহাড়ের অবয়ব ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। নিচে আলোকিত সানমিং। মনে হলো, সবুজ পাহাড়টি যেন শহরটিকে নীরবে আগলে রেখেছে।
হয়তো এ কারণেই ছিলিন মাউন্টেন পার্ক সানমিংয়ের মানুষের কাছে এত আপন। এটি শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র নয়, শহরের সবুজ হৃদয়। এটি শুধু প্রকৃতির আশ্রয় নয়, ইতিহাসেরও সাক্ষী। এটি শুধু আজকের মানুষের হাঁটার জায়গা নয়, বহু প্রজন্মের স্মৃতির ঠিকানা।
জীবনের সৌন্দর্য অনেক সময় বড় কোনো আয়োজনের মধ্যে পাওয়া যায় না। কখনো তা ধরা দেয় একটি পাহাড়ি পথে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে, কখনো গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আকাশ দেখতে দেখতে, আবার কখনো সন্ধ্যার আলোয় দূরের শহরকে নীরবে দেখতে দেখতে।
ছিলিন পাহাড়ে সেদিন আমি ঠিক তেমনই একটি বিকেল পেয়েছিলাম—যেখানে প্রকৃতির সবুজের সঙ্গে মিশে ছিল ইতিহাসের গন্ধ, মানুষের জীবনের উষ্ণতা আর একটি শহরের প্রতি গভীর ভালোবাসার গল্প।
লেখক: মোহাম্মদ ছাইয়েদুল ইসলাম, পিএইচডি, চীনের ফুচিয়ান প্রদেশের সানমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওভারসিজ এডুকেশন (স্কুল অফ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেস)-এর একজন সিনিয়র প্রভাষক ও গবেষক।
এমআরএম