চলন্ত ট্রেনে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশের চার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাদের প্রত্যাহার করে পাকশি জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন ওই চার পুলিশ সদস্য ট্রেনে দায়িত্বে ছিলেন। এ কারণে তাদের প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দোষীদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বে অবহেলা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারা হলেন এটিএসআই খোকন ইসলাম, পুলিশ সদস্য ফজলে রাব্বি, গোলাম মোস্তফা ও আশিকুল রহমান।
অভিযোগ উঠেছে, ৩১ আগস্ট গভীর রাতে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন চলন্ত অবস্থায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় তার করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অজ্ঞাতপরিচয় দুই পুলিশ সদস্য তার কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন এবং পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে ধর্ষণ করেন ক্যানটিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিক।
আরও পড়ুন
কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস / যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্যান্টিন বয় জেলে, পুলিশ সদস্যও জড়িত!
তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আবু বক্কর সিদ্দিক। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা আমলি আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, তাদের মধ্যে চলন্ত ট্রেনের ক্যানটিনে শারীরিক সম্পর্ক হয়। তবে সেটি ধর্ষণ নয়। দুজনের সমঝোতার ভিত্তিতেই তা হয়।
জবানবন্দি রেকর্ডের পর আদালত আবু বক্কর সিদ্দিককে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠান। অন্যদিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল টেস্টের পর ওই নারীকে তার ছেলের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সান্তাহার রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, রাত দেড়টার দিকে ট্রেনটি ঈশ্বরদী বাইপাস ছেড়ে আসার পর তিনি ক্যানটিনে এসে দেখেন ওই নারী বসে আছেন। তখন তিনি সেখানে ঘুমানোর জন্য ওই নারীকে অন্য কোথাও যেতে বলেন। উত্তরে ওই নারী জানান, তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চলে যাবেন।
এরপর বিছানা পেতে আবু বক্কর সিদ্দিক ঘুমানোর সময় বুঝতে পারেন কেউ তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছেন। এরপর উভয়ের সম্মতিতে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এসময় সেখানে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এরপর ওই নারী বিছানা থেকে উঠে বসেন এবং তার ছেলেসহ কয়েকটি জায়গায় কল করেন। ঘটনার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ভোর ৪টার দিকে ৯৯৯-এ কল করে অভিযোগ করলে পার্বতীপুর রেলওয়ে পুলিশ আবু বক্কর সিদ্দিকসহ ওই নারীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।
এলবি/একিউএফ/জেআইএম