টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্য সূচক বেড়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
এর আগে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে শেয়ারবাজারে একপ্রকার টানা দরপতন দেখা দেয়। সেই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে মূল্যসূচক। ১১ আগস্ট ডিএসইর প্রধান সূচক সেখানে ৫ হাজার ৯০৩ পয়েন্টের ওপরে ছিল, অব্যাহত পতনের মধ্যে পড়ে ৩১ আগস্ট তা ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টের নিচে নেমে আসে। সেই সঙ্গে কমে যায় লেনদেনের গতি। হাজার কোটি টাকার ওপরে থাকা লেনদেন চার’শ কোটি টাকার ঘরে নেমে আসে।
টানা পতন থেকে বেরিয়ে মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মেলে। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হয়। লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলে ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ৯২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪৬টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৯টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২০টির এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৬টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ১৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ৬টির দাম কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১২৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৩৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৩১ কোটি ৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৯৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৩৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ২৬ লাখ টাকার। ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সায়হাম কটন, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ফারইস্ট নিটিং, একমি পেস্টিসাইড, আর্গন ডেনিমস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০১টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৩টির দাম কমেছে এবং ৫৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৫৬ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
এমএএস/বিএ