প্রশ্ন: হাদিসে বাবা ছাড়া অন্যকে বাবা বলতে নিষেধ করা হয়েছে বলে শুনেছি। প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশে যে শ্বশুরকে বাবা বা আব্বু বলা হয় এটা কি জায়েজ?
উত্তর: হাদিসে নিজের বাবা ছাড়া অন্যকে বাবা হিসেবে পরিচয় দিতে নিষেধ করা হয়েছে এটা ঠিক। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যের বাবাকে নিজের বাবা বলে, অথচ সে জানে যে, সে তার বাবা নয়, ওই ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম। (সহিহ বুখারি: ৬৩৮৫)
তবে এই হাদিসের অর্থ পিতৃপরিচয় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আসল পরিচয় গোপন রেখে নিজের বাবার নাম উল্লেখ না করে, অন্যের নাম প্রকাশ করা। যেমন আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন অথবা এমন কোনো দলিল বা স্থান যেখানে কোনো ব্যক্তির জন্মদাতা নাম প্রকাশ করা জরুরি হয়।
স্বামী বা স্ত্রীর বাবা-মাকে সম্মানার্থে বাবা-মা বা আব্বা-আম্মা বলে সম্বোধন করার মাধ্যমে বংশপরিচয় গোপন করা হয় না। তাই শ্বশুরকে আব্বু বা শাশুড়িকে আম্মু বলা হাদিসের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয় এবং তা জায়েজ।
আরও পড়ুন
বরের বাবার জন্য কনে দেখা কি জায়েজ?
পিতৃপরিচয় বদলানোর উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো সন্মানিত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বাবা কিংবা মা বলার দৃষ্টান্ত কোরআন-হাদিসে রয়েছে।
যেমন পবিত্র কোরআনে মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্ত্রীদেরকে মুমিনদের মা এবং ইবরাহিমকে (আ.) মুসলিম উম্মাহর বাবা বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মা। (সুরা আহযাব: ৬) আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, এটা তোমাদের বাবা ইবরাহিমের মিল্লাত বা ধর্মাদর্শ; তিনি তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’। (সুরা হজ: ৭৮)
একইভাবে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর চাচি আবু তালিবের স্ত্রী ও আলীর (রা.) মাকে মা বলে ডেকেছেন। তার নাম ছিল ফাতেমা বিনতে আসাদ ইবনে হাশেম (রা.)। তিনি যখন মারা যান তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার ঘরে গিয়ে তার মাথার কাছে বসেন এবং বলেন, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, মা! আমার জন্মদাত্রী মায়ের পর আপনিই ছিলেন আমার মা। আপনি নিজে ক্ষুধার্ত থেকে আমাকে পেট ভরে খাইয়েছেন, নিজে জীর্ণ পোশাকে থেকে আমাকে ভালো পোশাক পরিধান করিয়েছেন, ভালো ও সুস্বাদু খাবার খাওয়া থেকে নিজেকে বঞ্চিত রেখে আমাকে আহার করিয়েছেন আর এসব কিছুর মাধ্যমে আপনি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টিই কামনা করতেন। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১৫৩৯৯)
আরও পড়ুন
‘প্রেমিক যুগলের জন্য বিয়ে সর্বোত্তম’ কেন বলেছেন মহানবী (সা.)?
ওএফএফ