অনলাইন খাবার সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডার প্রতিটি অর্ডারে নতুন করে ২৫ টাকা ‘প্ল্যাটফর্ম ফি’ যুক্ত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে গ্রাহকদের অনেকে। খাবারের মূল্যের সঙ্গে ডেলিভারি চার্জের বাইরে এই অতিরিক্ত ফি নেয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, অর্ডারের চূড়ান্ত বিল তৈরির সময় ডেলিভারি চার্জের পাশাপাশি নতুন এই ফি যুক্ত হওয়ায় খাবার অর্ডারের মোট খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত চার্জের প্রতিবাদে ফুডপান্ডা ব্যবহার বন্ধ করার কথাও জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক গ্রাহক নতুন ফি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাঁদের কেউ কেউ ফুডপান্ডার পরিবর্তে দেশীয় খাবার সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্ম ফুডি ও পাঠাও ফুড ব্যবহারের কথা জানিয়েছে।
এক গ্রাহক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ২৫ টাকা প্ল্যাটফর্ম ফি যুক্ত করা গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। অন্য এক ব্যবহারকারী ফুডপান্ডার ‘পান্ডা প্রো’ সাবস্ক্রিপশন বাতিল করে বিকল্প সেবা ব্যবহারের কথা জানান।
গ্রাহকদের একটি অংশের প্রশ্ন, রেস্তোরাঁ থেকে কমিশন এবং ডেলিভারি চার্জ নেয়ার পরও কেন অর্ডারপ্রতি আলাদা প্ল্যাটফর্ম ফি দিতে হবে। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত চার্জ আরোপের আগে এর কারণ ও অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা গ্রাহকদের কাছে স্পষ্ট করা উচিত।
তবে প্ল্যাটফর্ম ফি নেয়া হচ্ছে বলেই সেটিকে সরাসরি ‘অবৈধ’ বা ‘প্রতারণা’ বলা যায় না। এ ধরনের চার্জ কোনো প্রতিষ্ঠানের মূল্য কাঠামোর অংশ হতে পারে। তবে চার্জটি কীভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং গ্রাহককে অর্ডার নিশ্চিত করার আগে তা স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে কি না এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ফি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুডপান্ডার বাংলাদেশ কার্যক্রমের আর্থিক ক্ষতি নিয়েও বিভিন্ন দাবি ছড়িয়েছে। কয়েকজন গ্রাহক দাবি করেছে, বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা করেও প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের লোকসানের মুখে রয়েছে এবং সেই চাপ সামলাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেয়া হচ্ছে।
তবে ফুডপান্ডার বাংলাদেশ কার্যক্রমে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বা প্রতিষ্ঠানটি ‘দেউলিয়ার কাছাকাছি’ এমন দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য না থাকায় এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের অনলাইন ফুড ডেলিভারি বাজারে ফুডপান্ডার পাশাপাশি পাঠাও ফুড ও ফুডির মতো প্ল্যাটফর্মও রয়েছে। ফলে গ্রাহকের জন্য মোট অর্ডার মূল্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে খাবারের দাম, ডেলিভারি চার্জ, সার্ভিস বা প্ল্যাটফর্ম ফি এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জ মিলিয়ে চূড়ান্ত বিল প্রতিযোগী প্ল্যাটফর্মের তুলনায় বেশি হলে গ্রাহক বিকল্প সেবার দিকে চলে যেতে পারে।