মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সঙ্গে তিনি অঞ্চলটিতে ‘বহিরাগত হস্তক্ষেপ’ প্রত্যাখ্যান এবং ফিলিস্তিন ইস্যুকে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি অঞ্চলটিতে বহিরাগত শক্তিগুলোর দ্বৈতনীতি বন্ধের আহ্বান জানান শি।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কায়রোতে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে এসব কথা বলেন শি জিনপিং। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
‘একতরফাবাদ’ ও ‘দাদাগিরিমূলক কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে চীন ও মিশর যৌথ অবস্থানের কথা উল্লেখ করে শি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণকে নিজেদের বিষয়ে নিজেদেরকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং বহিরাগত হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অভিন্ন নিরাপত্তার জন্য একটি ‘সমন্বিত সমাধানের’ প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শি বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যু মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কেন্দ্রীয় বিষয় এবং এটিকে কখনোই উপেক্ষা বা প্রান্তিক পর্যায়ে বিবেচনা করা উচিত নয়।
এ ছাড়া, অঞ্চলটিতে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে বহিরাগত শক্তিগুলোর ‘দ্বৈতনীতি’ পরিত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) কায়রো পৌঁছান চীনা প্রেসিডেন্ট। এক দশক পর এটি তার প্রথম মিশর সফর। বৈঠকে চীন-মিশরের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন শি ও সিসি।
চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে ১৯৫৬ সালে সর্বপ্রথম উদ্যোগ নেয় মিশর। ১৯৯৯ সালে দুই দেশ কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করে।
কেএম