ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। হামলায় ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) হরমোজগান গভর্নরের কার্যালয় নিহত চারজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে। তারা হলেন চার বছর বয়সী আমির আলী কারিমি, ১৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মালাহি, ৪৩ বছর বয়সী কোলসুম মালাহি এবং ৪৩ বছর বয়সী জারখাতুন তাহেরি।
স্থানীয় সূত্র ও কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার সময় একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। সেই বাড়িও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।
ভবনের ছাদ ভেদ করে ক্ষেপণাস্ত্র
ঘটনাস্থলের ভিডিও, ছবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদনে কুহেস্তাকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার চিত্র উঠে এসেছে।
سندی از جنایت آمریکا در حمله به مناطق مسکونی / وسعت حمله ارتش آمریکا به مراسم عروسی در سیریک طبق گزارش جمعیت هلال احمر استان هرمزگان بیشتر مجروحان زنان و کودکان بودند. https://t.co/Sgam0BQwMU pic.twitter.com/HEtA3y5IFb
— جمعیت هلالاحمر ایران (@Iranian_RCS) September 2, 2026
স্থানীয়দের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের উপকূলের কাছে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লেগেছে। এতে টাওয়ারটি ধ্বংস হয়ে যায়।
কিছু স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন, হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে কয়েকজন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন, সেখানে এজিএম-৮৪কে এসএলএএম-ইআর ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো একটি সংস্করণ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য নির্ভুল নিশানার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল নারী ও শিশুর জুতা
বুধবার ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, যে ভবনে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল, তার ছাদে সরাসরি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আরও কয়েকটি ভিডিওতে ভবনটির ভেতরে ধ্বংসাবশেষ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়।
হামলার পর ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নারী ও শিশুদের জুতা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পাশের কয়েকটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করা হয়েছে, হামলায় তিনটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এর একটি ভবনের ছাদ ভেদ করে মাটিতে প্রায় দেড় মিটার গভীর গর্ত তৈরি করে।
‘সবাই ছিল বেসামরিক’
হামলার শিকার ভবনটির মালিক আলী মালাহি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, সেখানে তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ভবনের ভেতরে থাকা সবাই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
হাসপাতাল থেকে প্রচারিত রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে আহত শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।
হামলায় আহত এক তরুণ বলেন, তারা বাড়িটির দিকে যাওয়ার সময় আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছিলেন। এরপর বিস্ফোরণ ঘটে।
হাসপাতালের বিছানায় থাকা ওই তরুণ বলেন, অনেক শিশু ও নারী ভয়াবহভাবে আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থলে থাকা এক নারীও দাবি করেন, সেখানে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। তার ভাষ্য, বাড়িটিকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ঘটনাটি তারা বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করেছে। সংস্থাটি হামলার স্থান এবং আহত শিশুদের কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে।
পরে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তাদের মতে, এটি একটি ‘গুরুতর’ হামলা।
সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/