ফ্রান্সে কারাগারে বসেই একটি অপহরণ ও ডাকাত চক্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের দাবি, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কারাগার বসেই সহযোগীদের নির্দেশ দিতেন তিনি। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা ২৬ জন সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় পাওয়া গেছে রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপের নামও।
এই তালিকা দেখেই বোঝা যাচ্ছে অপহরণকারীদের নজরে ছিলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। ফরাসি পুলিশের তৎপরতায় দুষ্কৃতীদের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার ছাড়াও দুষ্কৃতীদের নিশানায় ছিলেন আরও কয়েকজন ফুটবলার, সঙ্গীত শিল্পী, ব্যবসায়ী। সব মিলিয়ে মোট ২৬ জন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়াঁর প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, সন্দেহভাজন ওই তরুণের নাম ক্লেমঁ এল। স্পেনের সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে ১৮ বছরের ক্লেমঁ এলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অনলাইনে তিনি ‘লেস্টার জেড’ নামে পরিচিত ছিলেন। গত ২১ আগস্ট নঁতেরেতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাড়িতে ডাকাতি এবং অপহরণের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অনলাইনে ‘লেস্টার জেড’ নামে পরিচিত ক্লেমঁ। মূলতঃ লেস্টার জেড নামেই সে একটি অপহরণ ও ডাকাত চক্র পরিচালনা করত। সশস্ত্র ডাকাতি এবং দালালির অভিযোগে এখন জেলে রয়েছে ওই যুবক। তদন্তকারীদের দাবি, জেল থেকেই ক্লেমঁ চক্রটির কাজকর্ম পরিচালনা করত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ন্যাপচ্যাটের সাহায্যে সহযোগীদের নানা নির্দেশও দিত।
গত এপ্রিল মাসে একটি ঘড়ির দোকানে ডাকাতির ঘটনার তদন্তে নেমে ক্লেমেঁর অপরাধমূলক কাজকর্ম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় পুলিশ। তার দুটি মোবাইল ফোন থেকে তদন্তকারীরা ২৬ জন ব্যক্তির ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সম্বলিত একটি তালিকা উদ্ধার করেন। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অপহরণের পরিকল্পনা করেছিল ডাকাত চক্রটি। ওই ২৬ জনের মধ্যে এমবাপের নামও ছিল। ফ্রান্সের অধিনায়কের নানা তথ্যও সংগ্রহ করেছিল ক্লেমঁ। তুরস্কের এবং চীনের দুই ব্যবসায়ীর নামও ছিল ওই তালিকায়।
আইএইচএস/