তনুশ্রী গাইন প্রিয়াঙ্কা
প্রাচীনকালে মানুষ কৃষির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। ফলে গাছ থেকে সরাসরি খাদ্য সংগ্রহ করে প্রস্তুত করতো। আজও কৃষির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন কিছু মানুষ। তবে কৃষিকাজ করলেই হয় না। জানতে হয় কৃষিকাজের নিয়মকানুন।
কৃষিকাজ কেন করবেন
ফ্রেশ খাবারের জন্য কৃষির বিকল্প নেই। ফ্রেশ খাবারের ফলে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা যায়। তাছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে। ইতিবাচক থাকা যায়। প্রকৃতিকে আলিঙ্গন করার সুযোগ হয়। তাই কৃষির বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন
শখের নার্সারি থেকে রাখির মাসে আয় লাখ টাকা
কোথায় কৃষিকাজ করবেন
বাড়ির পরিত্যক্ত জমি, বেলকনি অথবা ছাদে কৃষিকাজ করলে মন্দ হয় না। বরং মাটির রঙে মাটির কাছাকাছি থাকার সৌভাগ্য হয় এবং সময়কে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা যায়।
সবজি চাষের জন্য মাটি প্রস্তুত
প্রথমে ঢাকনাসহ বালতি সংগ্রহ করতে হবে। তারপর ঝুরঝুরে শুকনা মাটি, শুকনো গোবর, ডিমের খোসা গুঁড়া, পরিমাণমতো পাতা পোড়া ছাই, কাঠের গুঁড়া এবং সবজির খোসা সংগ্রহ করতে হবে। বালতিতে সবজির খোসা, মাটি, শুকনো গোবর, পুনরায় মাটি, ডিমের খোসা গুঁড়া, পাতা পোড়া ছাই এবং কাঠের গুঁড়া পর্যায়ক্রমে বালতিতে রেখে একমাস ঢাকনা দিয়ে বালতির মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। একমাস পর সবকিছু পচে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জৈব সার তৈরি হবে। ওই জৈব সার রোদে ভালোমতো শুকিয়ে, চালনা বিশিষ্ট পাত্র দিয়ে খাঁটি জৈব সার সংগ্রহ করতে হবে।ঘরোয়া পদ্ধতিতে এই জৈব সারে সবজি গাছ লাগালে বাজারের সার ছাড়াই বেশি ফলন পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন
১০ শতক জমিতে সুপার হট মরিচ চাষে সফল কামাল শেখ
তরল সার প্রস্তুত
১ লিটার বিশিষ্ট পাত্রে পরিষ্কার পানি এবং সবজির খোসা পনেরো দিন ভিজিয়ে রাখতে হবে। পাত্রের ঢাকনা অবশ্যই বন্ধ করে দিতে হবে। পনেরো দিন পর সবজির খোসা পচে তরল সার তৈরি হবে। প্রতিদিন সকালে ৫ লিটার বিশিষ্ট বালতিতে পরিষ্কার পানির সাথে ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার তরল সার মিশিয়ে গাছে দেবেন। এতে গাছ আশানুরূপ ফলন দেবে।
কৃষিকাজের ফলাফল
কৃষিকাজের ফলাফল সব সময় ইতিবাচক। যেমন আপনি বাড়িতে বসে বেগুন, শসা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ কিংবা পুইশাক চাষ করলে বাজারের বাড়তি খরচ থেকে মুক্তি পাবেন। কোনোরকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়া ভেজালমুক্ত তরতাজা খাবার পাবেন। ফলে সারাজীবন রোগমুক্ত থাকতে পারবেন।
লেখক: মাস্টার্স (ব্যবস্থাপনা), সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল।
এসইউ