নারায়ণগঞ্জ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নতুন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নিয়োগ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া নিয়োগ পেলেও তিনি এখনো তার কার্যালয়ে বসতে পারেননি। সেইসঙ্গে আদালতের বিচারকি কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারছেন না।
একইসঙ্গে তার নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। আর তার অনুপস্থিতিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুল হক হান্টু। নিয়োগপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া কবে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন সেটাও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া বলেন, সরকার আমাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আমি বর্তমানে অসুস্থ; যার কারণে এখনো আমার কার্যালয় খোলা হয়নি। আমি যখন আদালতে আসবো তখন কার্যালয় খোলা হবে। সরকার আমাকে নিয়োগ দিয়েছে সরকারই আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবে।
আদালতে আইনজীবীদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই অনেক রকম কথা বলবে। এতে আমার কিছু আসে যায় না। যখন কেউ দায়িত্ব পায় তখন তাকে নিয়ে অনেক কথায় বলা হয়ে থাকে। আমি সুস্থ হলেই আদালতে এসে আমার দায়িত্ব বুঝে নিব।
এদিকে আদালতপাড়া সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়রা আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নতুন সরকারি আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ২৫ আগস্ট আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া। আর এই নিয়োগের পর থেকেই আদালতপাড়া আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা যেন থামছে না। আনইজীবীরা কোনোভাবেই নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে মেনে নিতে চাচ্ছেন না। সেই সঙ্গে আইনজীবীরা অ্যাডভোকেট সুমন মিয়ার নিয়োগের বিরোধিতা করে আদালতপাড়ায় মিছিলও করেছেন। তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেন, নারায়ণগঞ্জের একজন গুরুত্বপূর্ণ স্পেশাল পিপিকে সরিয়ে নারায়ণগঞ্জ বারে ২০২৪ সালে সদস্যপদ পাওয়া একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সে নারায়ণগঞ্জের ভোটার না, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার ক্ষমতাও নাই।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ বারে তার কোনো অংশগ্রহণ নেই। তাকে কেবলমাত্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল যেন শুধু আইন পেশায় নিয়োজিত থাকতে পারে। যে আইনজীবী নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির ভোটার না বেনাভোলেন্ট ফান্ডের সদস্য না; এলডিপিএর সদস্য না; তাকে কে বা কারা কার মাধ্যমে স্পেশাল পিপি করা হয়েছে- এ বিষয়গুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তার নিয়োগ বাতিলের ব্যাপারে যত রকমের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন হয় আমরা নেব।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা সিনিয়র আইনজীবী। তিনি আমাদের বিএনপি দলীয় একজন ত্যাগী আইনজীবী। তিনি জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি যতদিন কোর্ট পরিচালনা করেছেন ততদিন সুন্দরভাবে পরিপক্ষভাবে কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। তিনি আমাদের দলের এবং আইনজীবীদের ভাবমূর্তি রক্ষা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আর এখন যাকে করা হয়েছে তিনি এই বারের সদস্য না। তার ভোট দেওয়ার ক্ষমতা নেই। এই অবস্থায় তার পিপি হওয়ার যোগ্যতা হয়নি। আমরা তাকে অনুরোধ করবো তিনি যেন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। অন্যথায় আইনজীবীরা যা করার সেটা করবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন বলেন, আইনজীবী সমিতিতে একটা সরকারি পোস্ট নিতে হলে তার অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে; তার পরিচিতির দরকার আছে। আইন পেশায় অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে। হঠাৎ করে আমরা যাকে দেখলাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকালীন সময়ে আমাদের অজান্তে তার নাম এসেছে। আমরা এটার তীব্র নিন্দা জানাই এবং বিরোধিতা করি।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এফএ