হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল এবার আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে। দেশটির অভিযোগ, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। তাই ভয়াবহ এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দেশ তিনটির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চায় কাঠমান্ডু।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত নেপালে ১ হাজার ২০৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনের তিব্বতে উদ্ধার হয়েছে আরও ২১ জনের মরদেহ। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ২২৫। নেপালে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ জন। এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন ২১ হাজার ৩১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী।
নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চিতওয়ান থেকে সবচেয়ে বেশি ৩৪৮টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নওয়ালপারাসি পূর্ব থেকে ২১৭, নওয়ালপারাসি পশ্চিম থেকে ২০২, নুয়াকোট থেকে ১৫৫ এবং রাসুয়া থেকে ১১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উত্থাপন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। তিনি বলেন, এসব দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হয়, যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়ছে। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিপূরণকে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে নেপাল।
খানালের ভাষায়, ‘আমরা সাহায্য নয়, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণ চাইছি।’ তার দাবি, এটি দয়াদাক্ষিণ্যের বিষয় নয়; বরং নৈতিক ও আইনগত দায়বদ্ধতার বিষয়।
এদিকে দুর্যোগের পর নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল জানিয়েছেন, বুধবার নেপালে পঞ্চম দফায় ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। এ দফায় সাড়ে ৫ টন ওষুধসহ এখন পর্যন্ত মোট ৭৪ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত। ১১ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দলও নেপালে কাজ করছে। ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬৬ ভারতীয়কে নেপাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া নেপালে পাঠানো ভারতীয় ফরেনসিক দল কাঠমান্ডুর দুটি গবেষণাগারে মৃতদেহ থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ পরীক্ষা করছে।
চীনের তিব্বতের গিরোং এলাকাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেখানে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪১ জন এখনো নিখোঁজ। ৩০ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন, যার মধ্যে ৪৯ জন ভারতীয়।