চা, পায়েস, পোলাও, বিরিয়ানি থেকে শুরু করে নানা মসলাদার রান্নায় দারুচিনির ব্যবহার রয়েছে। শুধু স্বাদ ও গন্ধের জন্য নয়, ঘরোয়া রান্নায় দীর্ঘদিন ধরেই এই মসলাটি জনপ্রিয়। বাজারে দারুচিনি সাধারণত কাঠির মতো গোটা অবস্থায় কিংবা গুঁড়া করে বিক্রি হয়। কিন্তু সব দারুচিনির গুণমান এক নয়। অনেক সময় দেখতে একই রকম হওয়ায় আসল দারুচিনি চেনা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে কেনার সময় কয়েকটি বৈশিষ্ট্য খেয়াল করলে ভালো মানের দারুচিনি বেছে নেওয়া সহজ হয়।
১. কাঠির গঠন দেখুন
আসল সিলন দারুচিনি বা ‘ট্রু সিনেমন’ সাধারণত পাতলা ও নাজুক হয়। এর ছাল অনেকগুলো পাতলা স্তরে পাকানো থাকে এবং ভেতরের অংশও তুলনামূলকভাবে সূক্ষ্ম। অন্যদিকে ক্যাসিয়া দারুচিনির ছাল সাধারণত মোটা ও শক্ত হয় এবং অনেক সময় একটি বা কয়েকটি মোটা স্তরে পাকানো দেখা যায়। তবে শুধু পাতলা-মোটা দেখে দারুচিনি ভেজাল কি না নিশ্চিত করা যায় না। বাজারে বৈধভাবেই বিভিন্ন ধরনের দারুচিনি বিক্রি হয়।
২. রঙে খুব বেশি গাঢ় কি না দেখুন
সিলন দারুচিনির রং সাধারণত হালকা বাদামি থেকে হলদে-বাদামি ধরনের হয়। ক্যাসিয়া তুলনামূলকভাবে গাঢ় লালচে বা বাদামি হতে পারে। তাই অত্যন্ত গাঢ় রং দেখলেই সেটিকে ভেজাল মনে করার কারণ নেই দারুচিনির প্রজাতিভেদে রঙের পার্থক্য স্বাভাবিক।
আরও পড়ুন
তাল মিষ্টি নাকি তিতা, বুঝবেন যেভাবে
৩. গন্ধে বোঝার চেষ্টা করুন
ভালো দারুচিনি হাতে নিলে এর স্বাভাবিক মিষ্টি ও উষ্ণ সুগন্ধ পাওয়া যায়। খুব তীব্র, কৃত্রিম বা অস্বাভাবিক গন্ধ থাকলে সতর্ক হওয়া ভালো। তবে গন্ধ কমে যাওয়ার অর্থ সবসময় ভেজাল নয়; পুরোনো বা দীর্ঘদিন খোলা অবস্থায় রাখা দারুচিনির সুগন্ধও কমে যেতে পারে।
৪. স্বাদ পরীক্ষা করতে পারেন
দারুচিনির স্বাদে মিষ্টি, উষ্ণতার পাশাপাশি হালকা ঝাঁঝ থাকে। ক্যাসিয়া সাধারণত তুলনামূলকভাবে বেশি তীব্র ও ঝাঁঝালো। সিলন দারুচিনির স্বাদ অনেকটাই কোমল। তবে সরাসরি বেশি পরিমাণে কাঁচা দারুচিনি খেয়ে পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
৫. কাঠি সহজে ভাঙে কি না
সিলন দারুচিনি পাতলা হওয়ায় তুলনামূলকভাবে সহজে ভেঙে যেতে পারে এবং ভাঙার জায়গায় অনেক পাতলা স্তর দেখা যায়। ক্যাসিয়া শক্ত হওয়ায় তা সহজে ভাঙে না। তাই গোটা দারুচিনি কিনলে এই বৈশিষ্ট্যটি দেখে দুই ধরনের দারুচিনির পার্থক্য কিছুটা বোঝা যায়।
৬. গুঁড়া দারুচিনিতে সতর্ক থাকুন
গোটা দারুচিনির তুলনায় গুঁড়া মসলার আসল-নকল চেনা কঠিন। কারণ গুঁড়া অবস্থায় প্রজাতি, রং ও গঠনের পার্থক্য সহজে বোঝা যায় না। তাই সম্ভব হলে বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে প্যাকেটজাত বা গোটা দারুচিনি কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী গুঁড়া করে ব্যবহার করা ভালো।
আরও পড়ুন
প্রোস্টেট সুস্থ রাখতে যেসব খাবার খাবেন
৭. প্যাকেটের তথ্য যাচাই করুন
প্যাকেটজাত দারুচিনি কেনার সময় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, উপাদান, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ ও প্যাকেটের অখণ্ডতা দেখে নিন। অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হওয়া বা লেবেলবিহীন পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।
আসল দারুচিনি মানেই শুধু ‘সিলন’ নয়
একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি ক্যাসিয়াকে সরাসরি ‘নকল দারুচিনি’ বলা ঠিক নয়। সিলন দারুচিনি ও ক্যাসিয়া দুটিই দারুচিনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে এগুলো আলাদা প্রজাতি এবং বৈশিষ্ট্যও আলাদা। তাই আপনি কোন ধরনের দারুচিনি কিনছেন, সেটি জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে ভালো উপায় হল দারুচিনির ধরন, গন্ধ, গঠন এবং প্যাকেটের তথ্য একসঙ্গে যাচাই করা। বিশেষ করে গুঁড়া দারুচিনির ক্ষেত্রে শুধু রং বা গন্ধ দেখে আসল-নকলের সিদ্ধান্ত না নেওয়াই নিরাপদ।
কেএসকে