
মাথার ত্বক থেকে সাদাটে, ধূসর বা হলদে কণা ঝরে পড়া মানেই কিন্তু খুশকি নয়। অনেক সময় ‘স্ক্যাল্প বিল্ডআপ’-এর কারণেও এমনটা হয়। এ বিষয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ও কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সিনথিয়া আলম–এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক স্ক্যাল্প বিল্ডআপ কী। সহজভাবে বলা যায়, আমাদের মাথার ত্বকে (স্ক্যাল্প) যদি বাড়তি কিছু জমা হয়, তাকেই বলা হয় স্ক্যাল্প বিল্ডআপ। এটি কোনো রোগ নয়।
তবে এটি বেশ অস্বস্তিকর একটি সমস্যা। এ ছাড়া সমস্যাটির সমাধান করা না হলে বেশ কিছু জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
আমাদের মাথার ত্বকের স্বাভাবিক নিঃসরণ সিবাম। এই সিবাম কিছুটা তেলতেলে হয়ে থাকে। নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার না করলে সিবাম জমে থাকতে পারে। একইভাবে ঘাম কিংবা মাথার ত্বকের মৃতকোষও জমা হতে পারে।
এ তো গেল প্রাকৃতিক ব্যাপারস্যাপার। অনেক সময় চুলের যত্ন বা সাজের জন্য ব্যবহৃত উপকরণের কিছু অংশও জমা হতে পারে মাথার ত্বকে। যেমন
তেল
ড্রাই শ্যাম্পু
জেল
কন্ডিশনার
চুল সাজানোর সময় ব্যবহৃত স্প্রে
মাথার ত্বকে চিটচিটে কিছু জমা হওয়া
মাথার ত্বক থেকে সাদাটে, ধূসর বা হলদে কণা বা চামড়ার মতো অংশ ঝরে পড়া
মাথার ত্বকে চুলকানিও হতে পারে
তবে এসব উপসর্গ দেখলেই সেটিকে স্ক্যাল্প বিল্ডআপ ধরে নেবেন না। অন্য কারণেও এ ধরনের উপসর্গ হতে পারে। বিশেষত মোটা আঁশের মতো কিছু ঝরে পড়লে বা মাথার ত্বকের নির্দিষ্ট জায়গায় সমস্যা থাকলে এর পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে।

স্ক্যাল্প বিল্ডআপ কোনো রোগ না হলেও এটির সমাধান করা প্রয়োজন। সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করলে হতে পারে জটিলতা। এতে—
মাথার ত্বকে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে
একসময় কিছু চুল পড়েও যেতে থাকে
তাই স্ক্যাল্প বিল্ডআপের উপসর্গ দেখা দিলে মাথার ত্বকের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে যত্নশীল হতে হবে।
নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার করুন। আপনার মাথার ত্বক এবং চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু বেছে নিন। এমন ক্ষেত্রে ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু (ডিপ-ক্লিনজিং বা গভীর পরিচ্ছন্নতাকারী শ্যাম্পু) বেশ কার্যকর।
নিয়মিত চুল আঁচড়ান।
তেল ব্যবহারে কিছুদিন বিরতি দেওয়া ভালো।
নিতান্তই তেলের প্রয়োজন হলে এমন তেল বেছে নিতে পারেন, যা চিটচিটে নয়।
জেল বা স্প্রে-জাতীয় উপকরণের ব্যবহার কম করুন।
মাথা ঘেমে গেলে মুছে নিন। বাড়ি ফিরে গোসল করুন।
যাঁরা লম্বা সময় মাথা ঢেকে রাখেন, তাঁরা সময়সুযোগ মতো সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে মাথার ত্বকে ও চুলে বাতাস দিন। সঙ্গে রাখতে পারেন ছোট একটি ফ্যান। কাজের বিরতিতে ওয়াশরুমে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য ফ্যানটি ব্যবহার করতে পারেন।

মাথার ত্বকে কন্ডিশনার দেবেন না (কন্ডিশনার কেবল চুলে ব্যবহার করুন)।
মাথার ত্বকে জমা হওয়া বাড়তি অংশ নখ দিয়ে ঘষে তোলার চেষ্টা করবেন না। টেনেও তোলা যাবে না।
একটানা লম্বা সময় মাথার ত্বক ঢেকে রাখবেন না। তাতে ঘাম জমা হয় সহজে।
সারা রাত মাথায় তেল রাখবেন না।
মাথার ত্বকে ব্যথা বা প্রচণ্ড চুলকানি হলে
মাথার ত্বক লালচে হয়ে গেলে
নির্দিষ্ট কোনো অংশ থেকে চুল পড়ে যেতে থাকলে
বেশ কিছুদিন করণীয়-বর্জনীয় বিষয়গুলো মেনে চলার পরও সমস্যাটি দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু না করলে
মনে রাখবেন, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস বা খুশকি কিংবা সোরিয়াসিসের মতো রোগেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই ছোটখাটো ব্যাপার ভেবে বিষয়টিকে অবহেলা করবেন না।