প্রশ্ন: আমি আট মাসের গর্ভবতী। এখন স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায় করতে আমার কষ্ট হয়ে যায়, পেটে চাপ লাগে। এই অবস্থায় আমি কি বসে ইশারায় নামাজ পড়তে পারবো?
উত্তর: গর্ভবতী হওয়ার কারণে রুকু-সেজদা আদায় করা যদি আপনার জন্য অসম্ভব বা কষ্টকর হয়ে পড়ে, গর্ভের শিশুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে আপনার সাধ্য অনুযায়ী যেভাবে নামাজ পড়তে পারেন, সেভাবে নামাজ পড়বেন। অর্থাৎ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা অসম্ভব হলে বসে নামাজ পড়বেন। বসেও সিজদা করতে অক্ষম হলে হাত জমিনে রেখে তার ওপর সিজদা করবেন। এটাও অসম্ভব হলে হাত সামনে রেখে যতটুতু ঝুঁকতে পারেন ততটুকু ঝুঁকে ইশারায় সিজদা আদায় করবেন।
ইশারায় সিজদার সময় সামনে টেবিল, বালিশ বা অন্য কোনো উঁচু জিনিস রেখে তাতে সিজদা করবেন না বরং শুধু ইশারা করবেন। আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) একবার একজন রোগীকে দেখতে গিয়ে দেখলেন, তিনি বালিশের ওপর সিজদা করছেন। তিনি বালিশটি সরিয়ে রাখলেন। তখন ওই ব্যক্তি একটি কাঠের টুকরা নিলো তার ওপর সিজদা করার জন্য। রাসুল (সা.) কাঠের টুকররোটিও নিয়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন, তুমি সক্ষম হলে জমিনের ওপর সিজদা করবে, না পারলে ইশারা সিজদা করবে। সিজদায় রুকুর চেয়ে বেশি ঝুঁকবে। (সুনানে বায়হাকি)
আরও পড়ুন
‘প্রেমিক যুগলের জন্য বিয়ে সর্বোত্তম’ কেন বলেছেন মহানবী (সা.)?
গর্ভাবস্থায় একজন মাকে অসুস্থতা ও তীব্র কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মায়ের গর্ভাবস্থার কষ্টের কথা উল্লেখ করে কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি মানুষকে তার মা-বাবার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছে। (সুরা আহকাফ: ১৫)
গর্ভাবস্থায় যেহেতু দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা কষ্টকর, অনেক ক্ষেত্রে মা বা সন্তানের ক্ষতি হতে পারে, তাই অন্তঃসত্ত্বা নারীদের রমজানের রোজা রাখার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। নিজের বা গর্ভের সন্তানের জন্য ক্ষতিকর মনে করলে তারা রমজানের রোজা ভেঙে পরবর্তীতে কাজা করতে পারেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা মুসাফির লোকের রোজা মাফ করেছেন ও অর্ধেক নামাজ কমিয়ে দিয়েছেন আর অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারীদের রোজা মাফ করে দিয়েছেন। (সুনানে তিরমিজি)
আরও পড়ুন
স্বামীর দেওয়া সোনার নেকলেস কেন বিক্রি করে দিয়েছিলেন ফাতেমা (রা.)?
ওএফএফ