জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক ইউপি সদস্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাই শরিফুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ক্ষেতলাল পৌর এলাকার বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন আহত ওই ইউপি সদস্য ।
আহত মনোয়ার হোসেন উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
পুলিশ ও আহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা ২ নম্বর ইউপি সদস্য মোনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই শরিফুল ইসলাম সুমনের জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার দিকে জয়পুরহাট থেকে বাড়ি ফেরার পথে ক্ষেতলাল পৌর শহরের বটতলী বাজার এলাকায় ইউপি সদস্য মোটরসাইকেল যোগে পৌঁছালে শরিফুল ইসলাম তাকে ছুরিকাঘাত করে।
এসময় স্থানীয়রা আহত ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত ইউপি সদস্যকে দেখতে যান থানার ওসি।
মনোয়ার হোসেন বলেন, সকালের দিকে জয়পুরহাট থেকে বেগুন বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে ক্ষেতলাল পৌরসভার বটতলী বাজারের একটি ফলের দোকানের পাশে অবস্থান করছিলাম। সেখানেই পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ভাই শরিফুল ইসলাম সুমন আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তখন আমি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে সে আমার পিঠের পিছনে চাকু দিয়ে আঘাত করে। এসময় হাত দিয়ে আমি প্রতিহত করার চেষ্টা করলে হাতেও ছুরিকাঘাত করে। তখন স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে দেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আতিকুর রহমান বলেন, আমি হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডে রোগী দেখার সময় মনোয়ার হোসেন নামে ওই রোগীকে দেখতে পাই। তার পিঠের পিছনে ও হাতে জখম হয়েছে। ওই রোগীর ভাষ্য, তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন, চিকিৎসা চলমান আছে।
অভিযোগের বিষয়ে শরিফুল ইসলাম সুমনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একারনে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্ষেতলাল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. আব্দুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলে, এঘটনায় আহত ইউপি সদস্যের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই ঘটনার ছায়া তদন্তে নেমেছে পুলিশ বলেও জানান তিনি।
মো. আল-কারিয়া চৌধুরী/কেজে/জেআইএম