হাই-টেক পার্কের ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান (টেকনিক্যাল নো-হাউ) ও কারিগরি সহায়তা ফি বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এখন থেকে নির্ধারিত সীমার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা (এফসি) অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি দেশীয় টাকার অ্যাকাউন্ট থেকেও এসব ফি রেমিট্যান্স করা যাবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারটি দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৬ মে জারি করা ‘এফই সার্কুলার নম্বর-২১’ এর ১০ ধারা অনুযায়ী, হাই-টেক পার্কের ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) পূর্বানুমতি ছাড়াই তাদের বৈদেশিক মুদ্রা (এফসি) অ্যাকাউন্ট থেকে রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নো-হাউ ও কারিগরি সহায়তা ফি বিদেশে পাঠাতে পারত।
এক্ষেত্রে নতুন প্রকল্পের জন্য আমদানি করা যন্ত্রপাতির মূল্যের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ এবং চালু থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আয়কর বিবরণীতে ঘোষিত আগের বছরের বিক্রয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ পাঠানোর সীমা রয়েছে।
আরও পড়ুন
৪২ কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ
নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বৈদেশিক দায় পরিশোধ সহজ করতে এডি ব্যাংকগুলো এখন থেকে দেশীয় ‘টাকা অ্যাকাউন্ট’ থেকেও নির্ধারিত সীমার মধ্যে এসব অর্থ বিদেশে রেমিট্যান্স করতে পারবে।
তবে অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো আয় বা অর্থের উৎস নেই এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রযোজ্য আয়কর ও ভ্যাট যথাযথভাবে কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তাও যাচাই করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ পাঠাতে হলে কিংবা অন্য কোনো বৈধ খরচের অর্থ বিদেশে রেমিট্যান্স করতে চাইলে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) পূর্বানুমোদন নিতে হবে।
এছাড়া এডি ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত আইন ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭-এর ৩(৪) ধারা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহক যাচাই (কেওয়াইসি) এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত (এএমএল/সিএফটি) বিধান কঠোরভাবে পরিপালনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ইএআর/এমএমকে