সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস আজ বৃহস্পতিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এরপরও ডিএসইতে বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে এদিন মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে আইটি ও সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলো।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হয়। শুরুতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় লেনদেনের এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
তবে লেনদেনের শেষদিকে ঢালাও দরপতন হতে থাকে। এর মধ্যেও আইটি ও সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। একই সঙ্গে বাছাই করা ৩০ কোম্পানির মধ্যে বেশিরভাগ দাম বাড়ার তালিকায় থাকে। এরপরও দাম কমার তালিকা বড় হয়ে মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১২৭ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১২৭ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এছাড়া ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুন
তিন বছরে বন্ধ চার শতাধিক পোশাক কারখানা: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী
এদিন আইটি খাতের ৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং ২টির দাম কমেছে। সিমেন্ট খাতের সবগুলো অর্থাৎ ৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১০টির দাম কমেছে ও ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০১টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৫টির এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮০টির এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ৭টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২৩টির দাম কমেছে এবং ৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় এক পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪০ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আরও পড়ুন
হাই-টেক পার্কের উদ্যোক্তাদের রয়্যালটি-কারিগরি ফি পাঠাতে নতুন সুবিধা
মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৩১ কোটি ৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪১ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার। ৩৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সায়হাম কটন।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সায়হাম টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, লাভেলো আইসক্রিম, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, টেকনো ড্রাগস এবং কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্স।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৬টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৪ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
এমএএস/কেএসআর