মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখের ছবিসহ বিশেষ ১ ডলারের একটি মুদ্রা বাজারে ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এই মুদ্রাটি ছাড়া হয়েছে ও বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে এই মুদ্রাটি বিক্রি শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, সোনালি রঙের মুদ্রাটির এক পাশ বা ‘হেড’-এ রয়েছে ট্রাম্পের মুখচ্ছবি ও অন্য পাশ বা ‘টেইল’-এ যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট সিল। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অব ফাইন আর্টস মুদ্রাটির নকশা অনুমোদন করে। কমিশনটির সদস্যদের নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প নিজেই।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, মুদ্রায় তার মুখচ্ছবি খোদাই করার এই ভাবনাটি ‘বেশ ব্যতিক্রমী’। তবে এতে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।
বিশেষ এই মুদ্রাগুলো বৈধ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে মুদ্রায় জীবিত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এমন ফেডারেল আইনের কারণে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে।
তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী বিশেষ মুদ্রা তৈরি ও বাজারে ছাড়ার অনুমোদন দিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিন্ট অর্থাৎ টাকশাল তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গৌরবময় ঐতিহ্যের ২৫০ বছরকে সম্মান জানাতে মুদ্রাগুলো তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের মুখচ্ছবির ওপরে অর্ধবৃত্তাকারে লেখা রয়েছে ‘লিবার্টি’। নিচে লেখা রয়েছে ‘১৭৭৬ ~ ২০২৬ ’।
মুদ্রাটির অন্য পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট সিল। এতে একটি টাক ঈগলকে এক পায়ে তীর ও অন্য পায়ে জলপাইয়ের ডাল ধরে থাকতে দেখা যায়। ঈগলটির ঠোঁটে ধরা একটি ফিতায় লেখা রয়েছে ‘ই প্লুরিবাস উনুম’। লাতিন এই কথাটির অর্থ, ‘অনেকের মধ্য থেকে এক’।
বিশেষ মুদ্রাগুলোতে ‘জুলাই ৪’ লেখা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণের বার্ষিকী ৪ জুলাই এসব মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল।
মুদ্রাগুলোর রং সোনালি হলেও এতে প্রকৃত কোনো সোনা নেই। মার্কিন টাকশালের তথ্য অনুযায়ী, মুদ্রাগুলোতে ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ তামা রয়েছে। বাকি অংশ জিংক, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেল দিয়ে তৈরি।
এই মুদ্রার ২৫টির একটি রোলের দাম রাখা হয়েছে ৬১ ডলার ও ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম ১৫৪ দশমিক ৫০ ডলার।
এখন প্রতিটি পরিবার সর্বোচ্চ দুটি অর্ডার দিতে পারবে জানিয়েছে মিন্ট। বুধবার রাতের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিন্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়, পণ্যটি এখন অর্ডার করা যাবে। তবে বর্তমানে এটির মজুত নেই। অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরির কাজ চলছে।
গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, তার বিভাগ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতিসংবলিত নতুন ২৫০ ডলারের একটি নোট চালুর পরিকল্পনা করছে।
তবে ফেডারেল আইনে জীবিত কোনো ব্যক্তির ছবি যুক্তরাষ্ট্রের কাগুজে মুদ্রায় ছাপানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ট্রাম্পের মিত্র কয়েকজন আইনপ্রণেতা এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখার জন্য আইন প্রস্তাব করেছেন। তবে প্রস্তাবটি বর্তমানে অগ্রসর হয়নি।
সেসময় বেসেন্ট উল্লেখ করেছিলেন, এর আগেও একজন জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশের মুদ্রায় স্থান পেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৯২৬ সালে প্রকাশিত অর্ধ ডলারের একটি মুদ্রায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের প্রতিকৃতি ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে পাস হওয়া ‘সার্কুলেটিং কালেক্টিবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট’-এর কথাও উল্লেখ করেছে। এই আইনে মুদ্রার পেছনের অংশ বা ‘টেইল’-এ জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সামনের অংশ বা ‘হেড’-এর ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি। নতুন ১ ডলারের মুদ্রায় ট্রাম্পের প্রতিকৃতি রাখা হয়েছে সামনের অংশেই।
অন্যদিকে, ১৮৬৬ সালের থেয়ার সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাগুজে নোটে কোনো জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে প্রচলিত ব্যাখ্যায় এই বিধান মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
সূত্র: বিবিসি
এসএএইচ