প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবিসহ একটি পোস্টার ঘিরে আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তার বিরুদ্ধে মোট ১৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তবে আপাতত স্বস্তি পেলেন এই অভিনেত্রী। আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রীলেখার বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাই কোর্ট।
শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আদালতে মামলাটির শুনানি হয়। এ সময় শ্রীলেখার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর খারিজের আবেদনও জানানো হয়। আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানির সময় বিতর্কিত পোস্টারটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পোস্টার কীভাবে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা যায়। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এটি কোনো কার্টুন নয় এবং একজন বিচক্ষণ ও সংবেদনশীল নাগরিক হিসেবে এমন পোস্ট ফেসবুকে কেন করা হয়েছে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।
শ্রীলেখার হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও শামিম আহমেদ। তারা জানান, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে।
আইনজীবীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট পোস্টারটি রুচিহীন বা আপত্তিকর হতে পারে। তবে এর ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা চালানোর মতো কোনো অপরাধ হয়েছে কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ জুলাই। নিটের প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কলকাতার রাস্তায় আয়োজিত এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন শ্রীলেখা। সেই সময় তার হাতে থাকা একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুরুচিকর ছবি ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন থানায় শ্রীলেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানাসহ একাধিক জায়গায় অভিযোগ জমা পড়ে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩ ও ৩৫৬ ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগের পর শ্রীলেখা দাবি করেছিলেন, তিনি পোস্টারটি ভালোভাবে দেখতে পাননি। সেদিন সঙ্গে চশমা না থাকায় পোস্টারে কী ছবি রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেননি বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন
ভিডিও করায় অপমানিত নচিকেতা, গান থামিয়ে দিলেন ধমক
তার দাবি, প্রতিবাদের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করছিল। সেই পরিস্থিতিতে কোনোভাবে তিনি ছবিটি তুলেছিলেন। পোস্টারটি ঘুরিয়ে দেখার সুযোগও তার হয়নি।
আদালতের নির্দেশের পর স্বস্তি প্রকাশ করে শ্রীলেখা বলেন, ‘এটাই আশা করেছিলাম আদালতের কাছ থেকে। আমার আইনজীবীদের ধন্যবাদ।’
অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষে অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার শ্রীলেখার আবেদনের বিরোধিতা করেন। তার বক্তব্য, পোস্টারটি নিসন্দেহে আপত্তিকর এবং অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
মুক্তির পর যেসব কারণে সমালোচনার মুখে ‘টক্সিক’
তবে কলকাতা হাই কোর্টের এ দিনের নির্দেশে আপাতত স্বস্তি পেলেন শ্রীলেখা। আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
এমএমএফ