নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১৭ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে মুসলিমনগর এলাকার তাহসিনুল কোরআন মাদরাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার শিক্ষকের নাম মো. রফিকুল ইসলাম (২৮)। তিনি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানার বরুনদা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। বর্তমানে তিনি ফতুল্লার মুসলিমনগরের তাহসিনুল কোরআন মাদরাসায় শিক্ষকতা করছিলেন।
আরও পড়ুন
১৫ হাজার শিশু নিখোঁজের কারণ জানালো পুলিশ, এখনো উদ্ধার হয়নি ২ হাজার
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, গতকাল বুধবার বিকেলে মুসলিমনগর এলাকার এক ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান- ওই মাদরাসার এক শিক্ষক ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন শিক্ষককে আটকে রেখে মারধর করছেন এবং এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই কলার দ্রুত পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
পরে ৯৯৯ থেকে ফতুল্লা থানাকে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল আল আমিন কলটি গ্রহণ করেন এবং পুলিশ ডিসপাচার এএসআই তরুণ কুমার আচার্য ফতুল্লা থানার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোর হাফেজি সম্পন্ন করার পর ভালোভাবে কোরআন মুখস্থ করার উদ্দেশ্যে প্রায় এক বছর আগে তাহসিনুল কোরআন মাদরাসায় ভর্তি হয়। গত এক বছর ধরে মাদরাসার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বলাৎকার করে আসছিলেন।
আরও পড়ুন
মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ
সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট রাতে ওই শিক্ষক তাকে বলাৎকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা তাকে মাদরাসা থেকে বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় যান। এ সময় স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘেরাও করে আটকে রাখেন।
পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার আরও জানান, খবর পেয়ে ফতুল্লা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের মা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
টিটি/কেএসআর