
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারকাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তাঁরা বিচারকার্যে সব মামলাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তবে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলাটিকে তাঁরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে, দ্রুততার সঙ্গে, যত দ্রুত সম্ভব এই বিচার শেষ করার চেষ্টা করবেন।
কেন দ্রুত করবেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে এই ঘটনা। আওয়ামী লীগের পুরো সময়ে বলেছে, রং মেখে তারা অভিনয় করেছে। অথচ সেদিন ওখানে অংশগ্রহণ করা ৬১ জন আলেম-ওলামাকে, নিরীহ মানুষকে নির্বিচার গুলি করে তাঁরা হত্যা করেছিল।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার এটাকে নানাভাবে মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। সারা দুনিয়ার মানুষ, বিশেষ করে আমাদের মুসলিম উম্মাহর যারা জনগণ আছে, দেশের যারা ইসলামপ্রেমী মানুষ, ধর্মপ্রাণ মানুষ, তাদের প্রত্যেকের একটা মনের আকাঙ্ক্ষা ছিল শাপলা চত্বরের এই হত্যা মামলাটির যেন বিচার হয়।’
মানুষের একটা গণদাবি আছে শাপলা চত্বর হত্যা মামলার বিচার যাতে দ্রুততার সঙ্গে হয়। জনগণের এই দাবির প্রতি, সেন্টিমেন্টের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাঁরা দ্রুততার সঙ্গে শেষ করবেন বলেও উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ এই মামলার আসামি ৪১ জন। এর মধ্যে ১১ জন আসামি গ্রেপ্তার আছেন।
এঁরা হলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক ডিআইজি মোহা. আব্দুল জলিল মণ্ডল ও একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
এ মামলার ৩০ আসামি পলাতক। এঁরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস ও সাবেক সংসদ সদস্য এস এম জাহিদ।
মামলায় যুবলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকেও আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
আরও আছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও র্যাবের সাবেক প্রধান মো. মোখলেছুর রহমান।
আত্মসমর্পণ করতে বলা আসামিদের মধ্যে আরও আছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মাহবুব হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন, ডিআইজি মহা. আশরাফুজ্জামান, ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন–অর–রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, রমনা অঞ্চলের এসি এস এম শিবলী নোমান ও মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী।