রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শেষ করার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ তিনি এ কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের মামলায় ১১ জন আসামি বর্তমানে কারাগারে। আর ৩০ জন আসামি পলাতক। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরোয়ানা অনুযায়ী তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় গিয়েও পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
শাপলা চত্বরে ৬১ জনকে হত্যার তথ্য মিলেছে, শনাক্ত ৫৮: চিফ প্রসিকিউটর
এ কারণে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এসব কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর মামলার বিচারকার্য শুরু হবে বলে জানান তিনি।
শাপলা চত্বরের মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা বিচারকার্যে সব মামলাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকি। তবে মতিঝিলের শাপলা চত্বর হেফাজতের নেতাকর্মীদের গণহত্যার মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করবো।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনাটিকে আওয়ামী লীগ ‘রং মেখে অভিনয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। অথচ ওই ঘটনায় ৬১ জন আলেম-ওলামাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
শাপলা চত্বরে গণহত্যায় হাসিনাসহ ২১ জনের নামে প্রতিবেদনের নির্দেশ
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, এ বিচার নিয়ে নানাভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার।
‘কিন্তু ধর্মপ্রাণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল শাপলা চত্বরের এ হত্যা মামলাটির যেন বিচার হয়। মানুষের গণদাবিও রয়েছে।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আমরা জনগণের এমন দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিচারটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করবো, ইনশাল্লাহ।
এফএইচ/ইএ