
ইউটিউবে এসেছে সাদিয়া আয়মান অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘আরো কিছুক্ষণ’। শিগগিরই পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার সুখবর দেবেন। তাঁর আরও খবরাখবর জানাচ্ছেন মনজুরুল আলম
সাদিয়া আয়মানের হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিতেই লাইন কেটে গেল। ওপাশ থেকে মেসেজ করে জানালেন, টানা শুটিং চলছে। ফুরসত পেলেই ফোন দেবেন। দুই ঘণ্টা পর মিলল সেই ফুরসত। ফোন দিয়েই হেসে বললেন, ‘সব দৃশ্যে আমি। একটু যে রেস্ট নেব, সেই সুযোগও নেই। কী আর করব। একের পর এক সিন করলাম। সবই ডে সিন। এখন খাওয়ার বিরতি। মনে হচ্ছে খাওয়া আর কথা একসঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে।’
‘জুটি বেঁধে কাজ করি না’
উত্তরার একটি শুটিং হাউসে চলছে সাদিয়া আয়মানের নাটকের শুটিং। সহশিল্পী ইরফান সাজ্জাদ। প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে এই জুটিরই আরেক নাটক ফ্যামিলি এক্সপ্রেস। ইরফানের সঙ্গে জুটি হয়ে বেশি নাটক করা হচ্ছে কি? প্রশ্ন শুনেই হাসলেন, বললেন, ‘আমাদের কিন্তু খুব একটা কাজ করা হয় না। সবার সঙ্গেই আমি অভিনয় করি। আমি জুটি বেঁধে কাজ করি না। জুটি হয়েই কাজ করতে হবে, সেটাও কখনো ভাবি না। সবার সঙ্গে অভিনয় করতেই আমার ভালো লাগে। এতে অভিনয়ের, গল্পের, লুকের ভ্যারিয়েশন থাকে। অনেক কিছু শেখা যায়।’
নাটক কেন কম করছেন
কাজলরেখা, উৎসব সিনেমার পরে দর্শকদের কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। এর পর থেকেই নাটকে সাদিয়া আয়মানকে তুলনামূলক কম দেখা যায়। কারণ কী? তিনি বলেন, ‘দুই সিনেমায় দর্শক আমাকে এতটা ভালোবাসা দিয়েছেন, যা আমাকে আপ্লুত করেছে। এখনো চরিত্র দুটি নিয়ে কথা হয়। সবার তো আমাকে নিয়ে আকাশসমান প্রত্যাশা। যে কারণে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে চাই। হুট করে ইচ্ছার বাইরে কোনো গল্পে নাম লেখাতে চাই না। দর্শকদের প্রত্যাশার কারণেই অনেক সিলেকটিভ হয়ে গেছি। একই গৎবাঁধা গল্পে কাজ করি না। দর্শক যেন বলতে না পারেন, সাদিয়া আয়মানের কাছে এটা প্রত্যাশা করিনি। যে কারণে বলছি দায়বদ্ধতা বেড়ে গেছে।’
‘এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমাকে নিয়ে যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁদের ভালো বাজেট থাকে। পরিচালক বা প্রযোজকেরা বলেন, “এই নাটকের অনেক লোকেশনে শুটিং। গল্পের উপস্থাপন আলাদা, সিনেমাটিক গল্প।” কিন্তু বেশির ভাগ চিত্রনাট্য পড়তে গিয়ে দেখি কোথাও গল্পের সেই সোল বা আত্মাটা নেই। বাজেট নয় আমি আত্মা খুঁজি। সেটাই পাই না। আমার তো চকচকে দরকার নেই, দরকার গল্পের সোল,’ বলেন সাদিয়া আয়মান। পরক্ষণেই হেসে বললেন, ‘পরিচালকদের ভালো গল্প নিয়ে আসতে বলেন, তাহলে নিয়মিত থাকব। ভালো গল্প খুঁজছি।’
‘আমার কি যোগ্যতা কম!’
একসময় ভেবেছিলেন সিনেমা দিয়ে বাড়তি পরিচিতির পরে সিনেমার মানুষেরা কাজের সুযোগ করে দেবেন। একের পর এক না হলেও নিয়মিত সিনেমার প্রস্তাব পাবেন। কিন্তু তেমন ভালো চিত্রনাট্য না আসাটা মন খারাপ করে দেয়। ‘সিনেমায় ভালো করলে আগে অনেক প্রস্তাব আসত, এগুলো সিনিয়রদের মুখে শুনেছি। আমার ক্ষেত্রে সেটা কম হয়েছে। মন খারাপও হতো, ভাবতাম, কেন সিনেমায় অনেক প্রস্তাব পাচ্ছি না। কখনো মনে হতো, আমার কি যোগ্যতা কম? পরে দেখলাম, না। আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজই হচ্ছে না। আচ্ছা বলেন, কোরবানি ঈদের পরে কয়টা সিনেমার ঘোষণা এসেছে। সিনেমায় যাঁরা নিয়মিত, তাঁদের অনেকেরই হাতে কাজ নেই। তবে যখনই সিনেমার কাজ আবার পুরোদমে শুরু হবে; আমার বিশ্বাস, ভক্তরা আমাকে নিয়ে যেটা প্রত্যাশা করেন, সেই গল্পগুলো করতে পারব। সেই আত্মবিশ্বাস আছে। কারণ, এ কথা কেউ বলতে পারবে না যে সাদিয়া আয়মান অভিনয় ভালো করে না,’ হেসে বলেন সাদিয়া।
কোনো কিছু নিয়েই সাদিয়া আয়মানের তাড়াহুড়ো নেই। সবুরে মেওয়া ফলে—এ সূত্রে বিশ্বাসী। সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘আমার আর কী এমন বয়স। ভালো কাজ করার বহু সময় এখনো রয়েছে। অনেক পপুলার হয়ে হুট করে দূরে সরে যেতে চাই না। একটু একটু করে দর্শকদের কাছে এক্সপ্লোরড হতে চাই। যে কারণে আমি সময় নেব। নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে চাই।’
সিনেমার সুখবর
নতুন করে দর্শক কবে তাঁকে সিনেমায় দেখতে পাবেন, এ প্রশ্নের উত্তরে এই অভিনেত্রী জানালেন, দীর্ঘ সময় নেওয়ার পরে একটি চিত্রনাট্য মনে ধরেছে। শিগগিরই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেটা নিয়ে বসবেন। এখন নাটক নিয়েই বেশি ব্যস্ত। সব মাধ্যমেই নিয়মিত কাজ করে যেতে চান।