অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা এবং অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচারে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখা গত বুধবার রাতে খুলনার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— মো. রাকিবুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম আরজু, শেখ সাকির আহম্মেদ এবং মিয়ানুল ইসলাম অয়ন।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীকে ধরতে গেলে হামলা, ৬ পুলিশ সদস্য আহত
মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিং কার্যক্রমে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। এসব ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় প্রলুব্ধ করা হতো।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বেটিং ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের প্রথমে ‘টপ-আপ’ বা ডিপোজিট করতে হতো। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হতো। অর্থ জমা হওয়ার পর ব্যবহারকারীর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরবর্তীতে জুয়ায় ব্যবহৃত হতো।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, এসব অবৈধ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাবগুলো নিয়মিত পরিবর্তন করা হতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এজেন্টদের কাছ থেকে এসব নম্বর ও হিসাব সংগ্রহ করে টেলিগ্রামসহ নানান যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। পরবর্তীতে তা বেটিং সাইটে প্রদর্শন করা হলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবহারকারীরা সেখানে অর্থ লেনদেন করতেন। সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা নির্দিষ্ট কমিশন রেখে অবশিষ্ট টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতেন। পরবর্তীতে বাইন্যান্সের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আরও পড়ুন
এক্সপ্রেসওয়েতে পড়ে ছিল মরদেহ, মুখ স্কচটেপে বাঁধা
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে সিআইডির পক্ষ থেকে পল্টন থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা উল্লিখিত অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কেআর/কেএসআর