দক্ষিণ আমেরিকার উদীয়মান প্রতিভা খোঁজার ধারাবাহিকতায় ব্রাজিলিয়ান তরুণ ডেনার এভাঞ্জেলিস্তাকে দলে ভিড়িয়েছে চেলসি। ১৮ বছর বয়সী এই প্রতিশ্রুতিশীল ডিফেন্ডারের সঙ্গে লন্ডনের ক্লাবটির চুক্তি ২০৩৪ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত।
ডেনারকে চেলসিতে আনার পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের মার্চেই ব্রাজিলের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব করিন্থিয়ান্সের সঙ্গে তাকে দলে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছিল চেলসি। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তার ইংল্যান্ডে পাড়ি দেওয়ার পথ তখনই তৈরি হয়েছিল।
তরুণ এই ফুটবলারকে পেতে চেলসির খরচ হয়েছে ১০ মিলিয়ন ইউরো। এর সঙ্গে পারফরম্যান্সভিত্তিক আরও ৪ মিলিয়ন ইউরো যোগ হতে পারে। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চুক্তিতে ১৫ শতাংশ ‘সেল-অন’ ক্লজও রাখা হয়েছে।
চেলসির পক্ষ থেকে ডেনারের আগমন নিশ্চিত করে তাকে ‘ভবিষ্যতমুখী, লেফট উইং ডিফেন্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আপাতত তাকে ক্লাবের একাডেমি দলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
দক্ষিণ আমেরিকার তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে চেলসির আগ্রহ নতুন নয়। ব্রাজিলিয়ান তরুণ এস্তেভাও ইতোমধ্যে ক্লাবটির হয়ে নজর কেড়েছেন। এ ছাড়া আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার ভ্যালেন্তিন বারকোকেও এবার দলে নিয়েছে চেলসি। তাদের স্কোয়াডে আরও রয়েছেন দক্ষিণ আমেরিকার তরুণ খেলোয়াড় অ্যারন আনসেলমিনো ও কেনড্রি পায়েজ।
কে এই ডেনার?ডেনার আলভেস এভাঞ্জেলিস্তা পেরেইরা, যিনি ফুটবল বিশ্বে শুধু ডেনার নামেই পরিচিত। মাত্র ১৩ বছর বয়সে করিন্থিয়ান্সের একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। ধাপে ধাপে বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে গত বছর ক্লাবটির অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স দেখান।
কোপা সাও পাওলো দে ফুটবল জুনিয়র প্রতিযোগিতায় করিন্থিয়ান্স রানার্সআপ হওয়ার পথে ডেনার করেন তিন গোল এবং দেন দুটি অ্যাসিস্ট। ফাইনালে সাও পাওলোর বিপক্ষে দলের প্রথম গোলটিও করেন তিনি।
ব্রাজিলের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন ডেনার। গত বছর দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন তিনি।
সাও পাওলোতে জন্ম নেওয়া ডেনারের পরিবারের শিকড় ফুটবলেই। তিনি আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান তারকা ও সেন্টার-ব্যাক গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের চাচাতো ভাই। গ্যাব্রিয়েল ২০১৭ সালে ব্রাজিল ছেড়ে ফরাসি ক্লাব লিলে যোগ দিয়েছিলেন।
করিন্থিয়ান্সের মূল দলের হয়ে অবশ্য এখনো অভিষেক হয়নি ডেনারের। তবে বয়সের তুলনায় বড় বয়সভিত্তিক দলে খেলে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ইউরোপের ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই দৌড়ে জয়ী হয়েছে চেলসি।
কোপিনহার ফাইনালে তার গোলটিই ডেনারের সামর্থ্যের একটি ঝলক দেখায়। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের সঙ্গে শারীরিক লড়াইয়ে জিতে একটি উঁচু পাস নিয়ন্ত্রণ করে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর ভেতরের দিকে কাট করে কাছের পোস্টে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান।
কোপিনহায় সেই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলেন ডেনার। এবার চেলসির একাডেমিতে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে তার। লন্ডনের ক্লাবটি আশা করছে, সময়ের সঙ্গে এই তরুণ ডিফেন্ডার ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।
এমএমআর