সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল চালকরা হেলমেট ব্যবহার করেন ডুমুরের ফুলের মতো। পুলিশ চেকপোস্ট বসালে কারো কাছ থেকে ধার করে এনে হেলমেট ব্যবহার করেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাঞ্চন-১ সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ দিনাজপুর সার্কেলের যৌথ আয়োজনে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এখানে এসেও শুনলাম দিনাজপুরে আজও (শুক্রবার) একজন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তার মাথায় হেলমেট ছিল না। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় এটা আমি জানতাম না, আমি জেনেছি যেদিন দিনাজপুর-৬ আসনের ৭ জন দাউদকান্দিতে দুর্ঘটনায় মারা যায় সেদিন।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক দুর্ঘটনা হয়, কিন্তু আমাদের দেশে বেশি হয়, কারণ মানুষ বেশি, যানবাহন বেশি, রাস্তাগুলো চওড়া কম, মানুষ সচেতন কম। এসএসসি পাস করলেই বাবা-মা একটা মোটরসাইকেল কিনে দেয়, হেলমেট ব্যবহার করে না।
তিনি মিডিয়া কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, যখন দুর্ঘটনা ঘটে তখন খুব ভালো করে খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু পরে আর ফলোআপ খবর হয় না। বাঁচা মরা আল্লাহর হাতে, তারপরও সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে হবে। যদি সড়ক দুর্ঘটনা না কমে তাহলে বুঝতে হবে আমাদের দুর্বলতা রয়েছে।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম এবং দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি এবং সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. সাদরাতুন মুমতাহিনা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৫৪(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের আওতায় দিনাজপুর সার্কেলের মোট ৭৩ জন ক্ষতিগ্রস্তকে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬৫ জনের পরিবারকে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং আহত ৮ জনকে ১৪ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।
এমদাদুল হক মিলন/এফএ