অতীতে নানা কৌশল ও সংবিধানের অপব্যবহার করে কোনো স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারেনি। আগামীতেও জনগণের অধিকার উপেক্ষা করে কেউ টিকে থাকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর পল্টন মোড়ে পথসভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে পল্টন মোড় থেকে শাপলা চত্বর অভিমুখে মিছিল পূর্ব পথসভা করা হয়।
পথসভায় মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, সাতসকালে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেভাবে মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনের বাংলাদেশ জনগণের হাতেই থাকবে।
তিনি বলেন, আজকের এই লংমার্চ কোনো সরকার পতনের লংমার্চ নয়। এই লংমার্চ আমাদের অধিকার আদায়ের লংমার্চ।
আরও পড়ুন
বিএনপি সরকার জনগণের সাথে ভাঁওতাবাজি করেছে: ডা. শফিকুর রহমান
নিত্যপণ্যের মূল্য কমানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, গ্যাস সমস্যার সমাধান ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবিতেই এ লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে উল্লেখ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, সবচেয়ে বড় দাবি হচ্ছে— গণভোটের গণরায় অবশ্যই মানতে হবে।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, এসব কথা বললে বিএনপির বন্ধুরা হয়তো মন খারাপ করবেন। তবে এটি কোনো তাৎক্ষণিক সরকার পতনের হুমকি নয়। আপনাদের কিছু করার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু জনগণের দুর্ভোগ যদি তাদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং জনগণ রাস্তায় নেমে আসে, তখন কেউ তাদের ঠেকাতে পারবে না।
সেলিম উদ্দিন বলেন, বিরোধী দল অবশ্যই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু জনগণ শুধু সরকারি দল ও বিরোধী দলের দিকে তাকিয়ে থাকবে— বিষয়টি এমন নয়। জনগণের দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকে যাবে, তখন তারা কারও দিকে তাকাবে না।
তিনি বলেন, আমরা আপনাদের অকল্যাণ চাই না; কিন্তু আমরা জনগণের কল্যাণ চাই। জনগণের প্রতি ভালোবাসার কারণে জনগণের কল্যাণ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই সময় থাকতেই সরকারকে সজাগ হতে হবে।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, আজকে বুঝতে হবে বাংলাদেশ কিন্তু আগের জায়গায় নেই। এখন মন্ত্রীদেরও আইন মানতে হচ্ছে এবং পুলিশেরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস হয়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আরও পড়ুন
জামায়াতের লংমার্চের কারণে জ্বালানি সংকট বাড়ছে: রাশেদ খাঁন
তিনি আরও বলেন, লংমার্চ একটি বড় আন্দোলন ও বড় কর্মসূচি। সাধারণভাবে কথা বলেও যখন সরকারের কানে জনগণের দাবি পৌঁছাচ্ছে না, তখন জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে বিরোধী দলকে রাস্তায় নামতে হয়েছে। জনগণ যে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে, সেই খবর সরকারকে বুঝতে হবে।
সরকার যদি এই বার্তাকে সঠিকভাবে গ্রহণ না করে, তাহলে এর পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এ সময় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে একজন নারীর প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে সেলিম উদ্দিন বলেন, এমন ঘটনার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এড়িয়ে যেতে পারেন না। অন্য কোনো দেশে এমন ঘটনা ঘটলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হতো।
পথসভা শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে পল্টন মোড় থেকে শাপলা চত্বর অভিমুখে মিছিল বের হয়। মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে মিছিলে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।
এ সময় তারা জনগণের অধিকার আদায়, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এমইউ/কেএসআর