নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। শহর থেকে শুরু করে থানা-উপজেলা পর্যায়েও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। শহরের প্রধান দুইটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন অনেক রোগী।
যদিও নারায়ণগঞ্জে এখনো ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন এরকম অনেকেই রয়েছেন।
এদের মধ্যে একজন হলেন রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের চেইনম্যান আবু ছিদ্দিক। গত ২৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানান রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ মারজানুর রহমান। ৫৮ বছর বয়সি আবু ছিদ্দিক রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে চেইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
একইসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকান্দা চৌধুরীপাড়া এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন গৃহবধূ আশা বেগম। গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন আশা বেগম। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
গত কয়েকদিনের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে অনেকগুলো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার কোনো হিসাব নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের কাছে নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, যেহেতু এখন ডেঙ্গু রোগের সময় চলছে, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকা স্বাভাবিক।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। সেইসঙ্গে চলতি মাসের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৪৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে গত আগস্ট মাসে জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১০ জন। এর মধ্যে ১২৭ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলার বাসিন্দারা। আগস্ট মাসে সদর উপজেলায় ২৫০ জন এবং বন্দর উপজেলায় ২৩৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সোনারগাঁয়ে ১০০ জন, আড়াইহাজারে ৫৩ জন এবং রূপগঞ্জে ৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সরকারি হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়েছে। নারায়ণগঞ্জ ৩০০ ও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় অর্ধশতাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। জুলাই পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে পাঁচ শতাধিক রোগী ভর্তি হলেও আগস্টে সেই সংখ্যা সাত শতাধিক ছাড়িয়েছে। তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আরও বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাশার বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান পর্যাপ্ত রয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। প্রায় ৯০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা নেন। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতন থাকাটা অনেক জরুরি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বাড়ছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। জনগণ সচেতন হলে সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। এ বিষয়ে সরকারেরও বিশেষ নজর রয়েছে।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এফএ