ভারতীয় দূতাবাসের ছাড়পত্র নিয়ে অবশেষে দেশে ফিরলো ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী গৌতম মিস্ত্রি (৫৫) এর মরদেহ। দুইদিন মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রেখে স্ত্রী ঢাকা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের অফিস থেকে ছাড়পত্র নিয়ে স্বামীর মরদেহ নিয়ে ভারতে ফিরে গেলেন। এ সময় স্ত্রীর কান্নায় গোটা এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
তবে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি ও স্থানীয় লোকজনের আর্থিকসহ মরদেহ নিয়ে যেতে সহযোগিতার কথা তিনি জীবনেও ভুলতে পারবেন না বলে জানান।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, গত ২২ আগস্ট ভারতীয় পাসপোর্ট ভিসা নিয়ে স্বামী গৌতম মিস্ত্রি স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রিকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। বরিশালে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়িয়ে দেশে ফেরার সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্ট্রোক করে বেনাপোলে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার পাসপোর্ট নং ঞ-৩৩৬১৬১১। তিনি কলকাতার ৭৮/১, কালিয়া নগর সুরিয়া সেন পল্লীর রমনী মিস্ত্রীর ছেলে।
কিন্তু কী ভাবে মরদেহ নিয়ে ভারতে ফিরে যাবেন সেই চিন্তায় মৃতের স্ত্রী জাহানারার মাথা কোনো কাজ করছিল না। এসময় বরিশালে আত্মীয়স্বজনদের (নিজ ভাই) ফোন দিলেও তারা আসেনি ঘটনাস্থলে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় মানুষজন ছুটে আসে তার সহযোগিতায়। মরদেহ নেওয়া হয় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে। সেখানে মরদেহ ময়নাতদন্ত করে রেখে দেওয়া হয়।
জাহানারা একাই স্বামীর পাসপোর্ট ও মৃত্যু সনদ নিয়ে ছুটে যান ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনে। সেখান থেকে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে আবার ফিরে আসেন যশোরের হাসপাতালে। পরে মরদেহ এ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নিয়ে আসেন বেনাপোল চেকপোস্টে। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তার মরদেহ ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে ফিরে যায়।
মরদেহের সঙ্গে থাকা গৌতম মিস্ত্রির স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি বলেন, দুই সপ্তাহ আগে স্বামীকে নিয়ে বাংলাদেশের বরিশালে বাবার বাড়ি এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। বুধবার দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বেনাপোলে আসি। গাড়ি থেকে নামার পর পরই আমার স্বামী গৌতম মিস্ত্রি অসুস্থ হন। এসময় স্থানীয় হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জাহানারা বলেন, বাংলাদেশে মারা যাওয়ায় বিভিন্ন কাগজপত্রের কারণে মৃতদেহ নিয়ে দেশে ফিরতে পারিনি। প্রায় তিনদিন পর হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট, স্থানীয় থানার জিডি এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ছাড়পত্র নিয়ে স্বামীর মরদেহ নিয়ে শুক্রবার দেশে ফিরে যাচ্ছি। তবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। আমার কাছে কোনো টাকা পয়সা ছিল না। এ দেশের মানুষ আমাকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করেছে। মরদেহ গাড়িতে উঠানো নামানো থেকে শুরু করে সার্বিক সাহায্য করেছে।
তিনি আরও বলেন, বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি স্যার এবং স্থানীয় কিছু লোকজন বেশকিছু টাকা পয়সা জোগাড় করে দিয়েছিলেন। যা দিয়ে ঢাকায় যাওয়া-আসাসহ খাওয়া-দাওয়া করেছি। কিন্তু আমার নিজের ভাইকে ফোন করেছিলাম সে আমাদের দেখতে পর্যন্ত আসেনি। এ দেশের মানুষের মানবিকতাকে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আমার আর কিছু দেওয়ার নেই।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, গত বুধবার স্ট্রোকজনিত কারনে মৃত্যুবরণকারী ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীর মরদেহ শুক্রবার বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে সেদেশে ফিরে গেছে। যেদিন ওই যাত্রী মারা গিয়েছিলেন সেদিন মৃত গৌতম মিস্ত্রির স্ত্রীর কাছে ডেথ সার্টিফিকেট এবং থানার জিডি কপি ছাড়া আর কোনো কাগজপত্র ছিল না। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় দূতাবাসের ক্লিয়ারেন্স আনার পর বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
মো. জামাল হোসেন/এসজেডএইচ/এএসএম