ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেছেন, জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান কেবল সরকার পরিবর্তন বা ক্ষমতার পালাবদলের আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল শোষণ, বঞ্চনা, স্বৈরাচার ও দুর্নীতির জাঁতাকল থেকে মুক্ত হয়ে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, শত শত শহীদের রক্ত ও হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা হলো এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং কৃষক-ভোক্তাদের জিম্মি করা সিন্ডিকেটের কোনো স্থান থাকবে না।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভাটারার নগর উত্তর কার্যালয়ে সংগঠনের দিনব্যাপী মাসিক ও যৌথ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিস্তার লাভ করা দুর্নীতি ও কৃত্রিম বাজার সিন্ডিকেট জাতীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দিতে বাধ্য করা—এসবই পুরোনো শোষণমূলক ব্যবস্থার ভিন্ন রূপ।
তিনি বলেন, বাজারব্যবস্থা থেকে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঘুষ ও দুর্নীতি নির্মূল করতে না পারলে শহীদদের রক্তে অর্জিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মুফতি অলিউল্লাহ, অধ্যক্ষ শেখ জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, মাওলানা তাজুল ইসলাম, ডা. মুজিবুর রহমান, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মোস্তফা আল মামুন মনির, ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন পরশ, মুফতি নিজাম উদ্দিন, মুফতি আব্দুল কুদ্দুস রশিদী, মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান, মুফতি মাছউদুর রহমান ও আরমান হোসাইন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান মুজাহিদ আরও বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার থেকে কৃত্রিম সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সিটি করপোরেশনে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া প্রশাসককে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোকে ঘুষ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত করে জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সময়ে সংঘটিত সব আর্থিক অপরাধ, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে জবাবদিহি, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী ও ন্যায়ভিত্তিক চেতনাকে ধারণ করে স্বনির্ভর, স্বচ্ছ, মানবিক ও সাম্যপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য ও জাতীয় দায়িত্ব।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার সম্পাদক মুফতি মো. মাছউদুর রহমান এসব তথ্য জানান।
এমইউ/এমএএইচ/