ফরিদা আনজুমান
আমি ফারিয়া আনজুমানের আপন বড় বোন ফরিদা আনজুমান। আমার বাকি দুই ছোট বোনের একজন আমারই প্রতিবেশী কানাডাতে আর আরেকজন থাকে অস্ট্রেলিয়াতে যার যার সংসার নিয়ে। আমি এবং আমার অন্য তিন বোন আলহামদুলিল্লাহ অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এবং ব্যক্তিগত জীবনযাপন করি। আমরা সব সময় আমাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়গুলো যতটা সম্ভব নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছি এবং কখনোই সেগুলো জনসমক্ষে নিয়ে আসতে চাইনি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করছি, আমাদের একান্ত ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়গুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে জনসমক্ষে নিয়ে আসা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা শুধু আমাদের সম্মান ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর আঘাত নয়, আমাদের এবং আমাদের পরিবারের নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতদিন নীরব থেকেও যখন পরিস্থিতি আর সহ্য করার মতো নেই; তখন আমি বাধ্য হয়েছি নীরবতা ভাঙতে এবং ঘটনার পর্যালোচনায় আমাদের দিকটি জনসমক্ষে তুলে ধরতে।
আমি এবং আমার অন্য বোনেরা সব সময় আর্থিক ও মানসিকভাবে আমাদের মা-বাবার পাশে থেকেছি। বিশেষ করে আমরা বাকি তিন বোন বিদেশে থাকায় ফারিয়া আমাদের মা-বাবা এবং প্রতিবন্ধী ছোট ভাই সৌরভের দেখাশোনা, সেবাযত্ন ও প্রয়োজনীয় দায়িত্ব নিয়মিতভাবে পালন করে এসেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আব্বু গুরুতর অসুস্থ হয়ে প্রায় এক মাস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এত দীর্ঘসময় হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও তার বড় ছেলে সাখাওয়াত এবং ছেলের দ্বিতীয় স্ত্রী শামসুন্নাহার সাথী একবারের জন্যও আব্বুকে দেখতে আসেনি, এমনকি ন্যূনতম খোঁজখবর নেওয়া বা একজন অসুস্থ বৃদ্ধ বাবার প্রতি সামান্য মানবিক উদ্বেগ দেখানোর প্রয়োজনও বোধ করেনি। সেই কঠিন সময়ে তার চিকিৎসা, সেবাযত্ন, মানসিক সাহস এবং প্রয়োজনীয় সবকিছুর দায়িত্ব আমরা পালন করেছি।
সাখাওয়াত হোসাইন কখনোই আমার মা-বাবা এবং প্রতিবন্ধী ছোট ভাইয়ের দায়িত্ব নেয়নি। বরং ২০২৩ সালে আব্বুর অসুস্থতা ও অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে সে আমাদের অনুপস্থিতিতে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির নাম করে জালিয়াতির মাধ্যমে আব্বুর কাছ থেকে সম্পূর্ণ নিজের একার নামে জোয়ার সাহারায় আমাদের ছয়তলা বাড়িটির একটা হেবা দলিল করিয়ে নেয়। তার এই অতীব জঘন্য, হীন কাজ করতে যেয়ে সে আমাদের অতি আদরের প্রতিবন্ধী ছোট ভাইটিকেও বঞ্চিত করতে দ্বিধা করেনি।
আরও পড়ুন
ঘটনার আড়ালে ঘটনা থাকে / চোখের দেখাই সত্যি নয়, না জেনে ভদ্রমহিলাকে কেন ভিলেন বানাচ্ছেন?
আমার আব্বু সবকিছু জানতে পেরে নামজারি সংশোধনের মাধ্যমে সাখাওয়াতের মালিকানা বাতিল করেন। শুধু আমার বৃদ্ধ মা-আব্বু ও অসহায় প্রতিবন্ধী ভাইয়ের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমাদের অধিকার রক্ষা করা এবং আব্বুর ইচ্ছা অনুযায়ী সম্পত্তি দুই ছেলে ও চার বোনের মধ্যে ইসলামি আইন অনুযায়ী ভাগ চাওয়ার কারণে ফারিয়া ও আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
সম্পত্তি থেকে আয়ের একমাত্র উৎস হাতছাড়া হওয়ার পর কর্মহীন সাখাওয়াত ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী আমার আব্বুর ওপর নতুন করে মানসিক চাপ ও হয়রানি শুরু করে। আমার আব্বুকে তার নিজের বাসাতেই কার্যত জিম্মি করে রাখা হয় এবং তার ওপর নজরদারির জন্য কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
আইনগতভাবে সম্পত্তির মালিকানা আব্বুর কাছে ফিরে আসার পর আব্বু, মা এবং আমার প্রতিবন্ধী ছোট ভাইয়ের আর্থিক দুরবস্থা বিবেচনা করে, ভাড়াটিয়াদের মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টি জানাতে ফারিয়া একটি সাধারণ ঘোষণাপত্রে আব্বুর স্বাক্ষর নেন। পরবর্তীতে সিসিটিভিতে ধারণ করা সেই দৃশ্যটিকেই সাখাওয়াতের স্ত্রী শামসুন্নাহার সাথী ‘জোরপূর্বক সম্পত্তির দলিলে স্বাক্ষর নেওয়ার ভিডিও’ হিসেবে অপপ্রচার করে। অথচ ভিডিওতে যে কাগজটি দেখা যায়, সেটি কোনো স্ট্যাম্পযুক্ত আইনগত দলিল নয়। সেখানে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট, সাব-রেজিস্ট্রার, আইনজীবী বা নিবন্ধন কর্মকর্তার উপস্থিতিও ছিল না। তাই ওই দৃশ্যকে সম্পত্তির দলিলে জোরপূর্বক স্বাক্ষর বা কোনো ধরনের রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
হাসপাতালে আব্বু (যিনি হিয়ারিং এইড ছাড়া শুনতে পান না) ও ফারিয়ার কথোপকথনের সময় সাখাওয়াতের দ্বিতীয় স্ত্রী শামসুন্নাহার সাথী নাটক করে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে এবং ভিডিও ধারণ করতে থাকে। এতে স্বাভাবিকভাবেই আমার বোন ও আব্বু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সাখাওয়াত ও শামসুন্নাহার সাথী ফারিয়াকে অপদস্থ করে। সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট আড়াল করে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ওই খণ্ডিত ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আমার বোন ফারিয়া আনজুমানের মতো একজন সৎ চিকিৎসক ও দায়িত্বশীল কন্যার সম্মানহানি করা।
আরও পড়ুন
মাদরাসায় শিশু যৌন নির্যাতন সম্পর্কে প্রশ্ন ফাহাম আবদুস সালামের
শুধু তা-ই নয়, সাখাওয়াত ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শামসুন্নাহার সাথী, ফারিয়ার ব্যক্তিগত তথ্য, ভিজিটিং কার্ড, চেম্বারের ঠিকানা, কর্মস্থলের ঠিকানা এবং ফোন নম্বর বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্যে প্রকাশ করে তাকে ও তার পরিবারকে ব্যাপক নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এখন সম্পত্তির লোভে অন্ধ হয়ে সাখাওয়াত আমার অসহায় ও বৃদ্ধ আব্বুকে ঘরবন্দি করে কার্যত জিম্মি করে রেখেছে। আমাকে এবং আমার বোনদের আব্বুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
সবশেষে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং ব্যক্তিগত বিষয় জনসমক্ষে আনা হলেও আমরা কাউকে সাখাওয়াত ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শামসুন্নাহার সাথী বা অপরপক্ষের কাউকে হয়রানি, অপমান, হুমকি বা ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ কখনো করিনি বা করার আহ্বানও জানাচ্ছি না। বরং সবাইকে অনুরোধ করছি, এই পারিবারিক বিষয়কে আর উত্তপ্ত না করে আমাদের নিজেদের মধ্যে সম্মানজনক, ন্যায়সম্মত ও আইনগতভাবে সমাধান করার সুযোগ দিন।
(ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া)
লেখক: বৃদ্ধের কানাডা প্রবাসী বড় মেয়ে।
এসইউ