সংবাদের ছবিতে থাকা নারীর নাম সামাহ আল-আরাবিদ আল-খালিদি। তিন সন্তানের এ জননী গাজার বাসিন্দা ছিলেন। ধ্বংসস্তূপে বসবাস করা পরিবারগুলোর কাছে তিনি ‘উম্মে মুহাম্মদ’ নামে পরিচিত ছিলেন। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি হামলায় তার মৃত্যু হয়। তবে, যোদ্ধার বেশে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে মা সামাহ আল-আরাবিদ।
জানা যায়, সামাহ সম্প্রতি তার ছেলে ওবাইদার বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গাজার ভয়াবহ নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেও মা সামাহর ইচ্ছে ছিল, ছেলের বিয়েতে পরিবারের সবাই যেন একসঙ্গে থাকেন।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতা এই যে, সে আনন্দ আয়োজনে তিনিই থাকছেন। গাজা সিটির আল-জালা স্ট্রিটের পারিবারিক শোকঘরে তার মৃতদেহ রাখা হয়েছে।
সামাহর ভাই মোহাম্মদ আল-খালিদি জানান, বিয়েকে ঘিরে সামাহ খুব আনন্দিত ছিলেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ছেলেকে বাঁচাতে মা থেকে যোদ্ধা
ইসরায়েলি অভিযানে সামাহ নিহত হলেও তার ছেলে ওবাইদা বেঁচে যান। তবে, তিনি গুরুতর আহত হন এবং একটি চোখ হারান। সামাহর স্বামী মুইন আল-আরাবিদও আহত হয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পশ্চিম গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী বেসামরিক গাড়ি ব্যবহার করে আল-কাতিবা এলাকায় অভিযান চালায়। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের লক্ষ্য ছিলেন সামাহর স্বামী মুইনকে আটক করা।
ইসরায়েলি অভিযানের খবর পেয়ে বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করেন মুইন, তার এক ছেলে ও আরেক সহযোগী। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী দ্রুতই তাদেরকে চিহ্নিত করে এবং তাদের মধ্যে গুলিবিনিময় শুরু হয়। তার এক ছেলের বুকে তিনটি গুলি লাগে। স্বামী মুইনও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে একটি গাছের আড়ালে আশ্রয় নেন।
এ ঘটনা জননী সামাহর চোখের সামনে ঘটে। ঘটনার আকষ্মিকতায় পালিয়ে না গিয়ে হতভম্ব সামাহ ঐশ্বরিক শক্তিতে এগিয়ে যান। হাতে তুলে নেন ছেলের কালাশনিকভ একে-৪৭ রাইফেল। নামাজের পোশাক পরা অবস্থায় গাছের আড়াল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান। পরিবারের দাবি, অভিযানের ভিডিওতেও তাকে গুলি চালাতে দেখা যায়।
পরে ওই এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়। এতে সামাহ নিহত হন এবং তার আরও দুই ছেলে আহত হন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় মোট ৭৩ হাজার ৩৮৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৬৬ জন।
সূত্র: কিউএনএন/পিসি নিউজ
কেএম