‘শ্রমিকের মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায্য মজুরি কোনো দাবি নয়, এটি নাগরিক অধিকারের অংশ। শ্রমিকদের প্রাপ্য মূল্যায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়নে নারী নেতৃত্ব ও তরুণ শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-এ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিল্স) আয়োজিত ১০ম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘মর্যাদা, অধিকার, ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়’ স্লোগানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিল্সের সদস্য, দেশি-বিদেশি শ্রমিক সংগঠন, সরকার, নিয়োগকর্তা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ বলেন, কর্মজগতের নিরাপত্তা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সঙ্গে যুক্ত। শ্রমজগতের উন্নতি সাধনের জন্য প্রত্যেক শ্রমিকের যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মজুরি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন
টিআইবি / যেসব সরকারি চাকরিজীবী আয়-ব্যয়ের হিসাব দেন, শুধু তাদের বেতন বাড়া উচিত
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, ন্যায্য মজুরি কোনো দাবির বিষয় নয়, বরং এটি নাগরিক অধিকারের অংশ। সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষের নির্বাচিত সরকার এটি নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।
সম্মেলন ও সাধারণ সভার উদ্বোধন করছেন অতিথিরা/ছবি: বিল্স
তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ, শোভন কাজ ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা, আস্থা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং মালিক-শ্রমিকের ঐক্যের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় শ্রমিক শ্রেণির অবদানের কথা তুলে ধরেন সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, দেশের সব সেক্টরের শ্রমিকদের কারণেই বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রয়েছে।
আরও পড়ুন
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নতুন পে-স্কেলে বেতন-ভাতা পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী
এ সময় মন্ডিয়াল এফএনভির পলিসি অ্যাডভাইজার রুবেন কোরেভার বাংলাদেশের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে নারী নেতৃত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডিটিডিএ’র এশিয়া অফিসের হেড লটে এলিগার্ড ত্রিপক্ষীয় আলোচনা ও সামাজিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কার্যকর সামাজিক সংলাপের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্য নিশ্চিত করা জরুরি।
নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর জান্না ভ্যান ডার লিন্ডেন বলেন, শ্রমিক শ্রেণি যখন নিজেদের ভাষায় দরকষাকষি, আলোচনা ও সংলাপে অংশগ্রহণ করবে, তখনই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে।
বক্তারা শ্রমিকের মর্যাদা, অধিকার ও ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর সামাজিক সংলাপ, মালিক-শ্রমিকের ঐক্য ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শ্রমবাজার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
ইএইচটি/ইএ