পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান অসুস্থ। রাজনৈতিক কারণে তিনি তবু কারাবন্দি। ইমরান খানের যেন সুচিকিৎসা হয় সেজন্য এর আগে কথা বলেছেন ভারতের কপিল দেবসহ অনেক কিংবদন্তি।
এবার ইমরান খানের হয়ে মুখ খুললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটার ব্রায়ান লারা। কারাবন্দি সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়কের জন্য ‘যথাযথ ও স্বাধীন চিকিৎসাসেবা’ এবং প্রাপ্য মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে লারা বলেন, ক্রিকেট মাঠে ইমরানের সঙ্গে তার খুব বেশি দেখা হয়নি। তবে সাবেক পাকিস্তান অধিনায়কের প্রতি তার শ্রদ্ধা ছিল ‘তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘস্থায়ী’।
লারা লিখেছেন, ‘নিজ দেশের জন্য একসময় আশা, গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক ছিলেন এমন একজন মানুষ কীভাবে এখন এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন! যেখানে তিনি প্রাপ্য সহমর্মিতা ও মর্যাদার সঙ্গে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এটি বুঝতে আমার কষ্ট হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, সাবেক অধিনায়কদের সঙ্গে তিনিও ইমরান খানের যথাযথ ও স্বাধীন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে একাত্ম। তার ভাষায়, ‘আমি আমার সাবেক অধিনায়ক সতীর্থদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আহ্বান জানাচ্ছি, তাকে যথাযথ, স্বাধীন চিকিৎসাসেবা এবং প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হোক।’
ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে নিজের অবস্থানকে রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য হিসেবে দেখতে নিষেধ করেছেন লারা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি রাজনীতি নয়। এটি আমাদের খেলার একজন কিংবদন্তির জন্য মৌলিক মানবিকতার বিষয়।’
লারা এমন সময় এই মন্তব্য করলেন, যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ২১ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষকে ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে শিফা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে তাকে শিফা হাসপাতালে না নিয়ে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের দাবি, শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ইমরানের বোন ও তার নিজস্ব চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে তার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয় বলেও জানান তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ যোগ্য চিকিৎসকদের একটি দল ইমরানের বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে এবং তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করেছে।
তবে সরকারের এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হয়নি ইমরানের দল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে তাকে নির্ধারিত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে-এমন অভিযোগে দলটি আদালত অবমাননার আবেদন করেছে।
ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে আসা ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত ৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে আসছেন, তার বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানো ইমরান খান দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক। এবার সেই ক্রিকেট কিংবদন্তির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহল থেকে একের পর এক সমর্থনের আওয়াজ উঠছে।
এমএমআর