ইসরায়েলের নির্মিত ‘নেভাল লোরা’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপনের মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতার নতুন মাত্রা দেখিয়েছে জার্মানি। এর মাধ্যমে নিজ ভূখণ্ড রক্ষা ছাড়াও দূরপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতার দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। মূলত এ পরীক্ষার মাধ্যমে রাশিয়াকে কৌশলগত বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটোর সামুদ্রিক দূরপাল্লার হামলা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়া-ইউরোপের সীমান্তজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
জার্মান নৌবাহিনী ১–২ সেপ্টেম্বর রাতে উত্তর আটলান্টিকে একটি বাডেন-ভুর্টেমবার্গ শ্রেণির ফ্রিগেট থেকে দুটি কনটেইনারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। আয়ারল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মধ্যবর্তী এলাকায় এ পরীক্ষা চালানো হয়। এ পরীক্ষা জার্মানির কোনো যুদ্ধজাহাজ থেকে প্রথম বাস্তব পরিস্থিতির কাছাকাছি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জার্মান নৌবাহিনীর পরিদর্শক ভাইস অ্যাডমিরাল ইয়ান ক্রিশ্চিয়ান কাক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে নৌ ইতিহাসের ঘুগান্তকারী ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, নতুন এই সক্ষমতার সম্ভাব্য পাল্লা জার্মান নৌবাহিনীর আগের যেকোনো সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং এটি প্রতিরোধনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই ক্ষেপণাস্ত্রই নির্ধারিত গতিপথ অনুসরণ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে বলে জানা গেছে। এই পরীক্ষা জার্মান নৌবাহিনীর ‘মেরিন ২০৩৫’ আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ। রাশিয়ার সামরিক চাপের প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচিতে সমুদ্রভিত্তিক দূরপাল্লার হামলা, ছড়িয়ে থাকা যুদ্ধক্ষমতা ও দ্রুত নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কেএম