নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক নিয়োগের নির্বাচনি বোর্ড পুনর্গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, সিন্ডিকেট মনোনীত নির্বাচনি বোর্ডের দুই সদস্যের মেয়াদ দুই বছর। তবে আগের প্রশাসনের গঠিত বোর্ডের দুই বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নতুন বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮ তম সিন্ডিকেট সভায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনি বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এ সভা শেষ হয় রাত সাড়ে ৮টায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া। তিনি সিন্ডিকেট সভায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বলেন, নিয়োগ বোর্ড গঠনের জন্য আগের সিন্ডিকেটগুলো থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় আজকের সভায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক ক্যাটাগরিতে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনি বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৬ সালের ১১ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৭ তম সিন্ডিকেট সভায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনি বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে উপাচার্যকে অর্পিত ক্ষমতাবলে পুনর্গঠিত নির্বাচনি বোর্ড অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর প্রথম সংবিধির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারায় সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং অন্যান্য গবেষণা ও শিক্ষকতা পদে নিয়োগের সুপারিশ প্রদানের জন্য নির্বাচনি বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে সিন্ডিকেট কর্তৃক দুজন সদস্য মনোনীত হন এবং মনোনয়নের তারিখ থেকে তাদের মেয়াদ দুই বছর। এছাড়া উপাচার্য বোর্ডের সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি সদস্য হিসেবে থাকেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৫৫৮ তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনি বোর্ড গঠন করা হয়। ওই সময় প্রতিটি বিভাগে দুই বছরের জন্য দুজন করে বিশেষজ্ঞ সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
ফলে ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ হয়েছে প্রায় ২০ মাস। দুই বছর পূর্ণ হতে আরও প্রায় চার মাস বাকি থাকতেই বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আগের বোর্ডের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি দুই বছর পূর্ণ হওয়ার কথা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর। বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হতে এখনো প্রায় চার মাস বাকি রয়েছে। এর আগেই বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড পুনর্গঠনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগের সিন্ডিকেটগুলোর সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনি বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে।
এমএমআরআর/এসজেডএইচ/জেআইএম