তানভীর আহমদ রাহী
কর্মব্যস্ত নগর জীবনের ক্লান্তি দূর করতে একদিনের ছুটিতে প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে চাইলে আদর্শ গন্তব্য হতে পারে সীতাকুণ্ডের সহস্রধারা-২ ঝরনা ও মিরসরাইয়ের বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত। পাহাড়, ঝরনা আর সমুদ্র—তিনের স্বাদ একদিনেই।
৫ সেপ্টেম্বর ভাই-বন্ধুদের নিয়ে সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের মুরাদপুর থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। প্রথম গন্তব্য নগরীর অলংকার মোড়। দেশের যে কোনো স্থান থেকে চট্টগ্রামে এসে সীতাকুণ্ড যেতে হলে এই অলংকার মোড় হয়েই যেতে পারবেন। অলংকার মোড় থেকে সীতাকুণ্ডগামী বাসে চড়ে বসি। ভাড়া ৭০-৮০ টাকা।
প্রায় এক ঘণ্টার পথ। রাস্তার দুপাশে সবুজ পাহাড়ের সারি দেখে মন ভরে যায়। গিয়ে নামি ছোট দারোগারহাট। সেখান থেকে ২০ টাকা ভাড়ায় সিএনজি আমাদের পৌঁছে দেয় সহস্রধারা-২ ঝরনার প্রবেশ গেটে। ৮০ টাকার টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করি। টিকিটের সঙ্গেই আছে কৃত্রিম লেকের নৌকা ভাড়া।
আরও পড়ুন
ভিন্ন স্বাদ নিতেই অপরিকল্পিত বান্দরবান ভ্রমণ
লেকের স্বচ্ছ জলে নৌকা ভাসিয়ে ঝরনার কাছে যেতেই শীতল বাতাস আর ঝরনার পানির শব্দে মন জুড়িয়ে যায়। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। মূল ঝরনার পাশেই আছে আরেকটি ছোট ঝরনা। পথ খুব বেশি দুর্গম না হওয়ায় যারা হাঁটতে পারেন না; তাদের জন্যও সহস্রধারা-২ উত্তম পছন্দ।
ঝরনা উপভোগ শেষে দুপুরের দিকে আমরা রওয়ানা দিই বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশ্যে। ছোট দারোগারহাট থেকে রিজার্ভ সিএনজিতে ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা। চাইলে লোকাল বাসেও যাওয়া যায়।
বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকতের বিশালতা আর উত্তাল ঢেউ দেখে সবাই বিমোহিত হই। বিকেলের সোনালি রোদে সৈকতের রূপ ছিল অপরূপ। সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যায় আমরা ফেরার পথ ধরি। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একদিনের এই ট্যুর হতে পারে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
লেখক: শিক্ষার্থী, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ।
এসইউ