চুল হবে ঝলমলে, মসৃণ আর এতটাই চকচকে যে আলো পড়লে মনে হবে কাচের মতো ঝকঝক করছে-এমন চুল এখন সৌন্দর্যপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দ। চুলের এই পালিশ করা, গ্লসি লুকই পরিচিত ‘গ্লাস হেয়ার’ নামে।
চুলের রুক্ষতা দূর করে মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখানোর এই ট্রেন্ডে অনেকেই খুঁজছেন ঘরোয়া উপায়। আর সেখানেই সামনে আসে মেথি ও ডিমের মতো পরিচিত দুটি উপাদান।
চুলের যত্নে দুটিরই রয়েছে আলাদা ব্যবহার। মেথি চুলকে নরম ও মসৃণ দেখাতে পারে, আবার ডিমের রয়েছে প্রোটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড। কিন্তু গ্লাস হেয়ারের মতো চকচকে লুক পেতে আসলে কোনটি বেশি কাজে দেবে?
মেথির মিউসিলেজ চুল মসৃণ করতে পারে
চুলের জেল্লায়
রান্নাঘরের পরিচিত মেথি শুধু খাবারের স্বাদ বাড়াতেই নয়, চুলের যত্নেও বহুদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মেথি বীজ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে কিছুক্ষণ পর পানিতে তৈরি হয় আঠালো, জেলির মতো একটি উপাদান। এটিই মেথির মিউসিলেজ।
চুলে এই মিউসিলেজ ব্যবহার করলে তা চুলের ওপর এক ধরনের মসৃণ আবরণ তৈরি করতে পারে। ফলে চুল ধোয়ার পর তুলনামূলকভাবে নরম লাগে, চুল সামলানো সহজ হয় এবং রুক্ষতাও কিছুটা কম মনে হতে পারে।
গ্লাস হেয়ারের সৌন্দর্যের মূল রহস্যই হলো মসৃণতা। চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিক্যাল যতটা সমান ও মসৃণ দেখায়, আলোও তত সুন্দরভাবে চুলের ওপর প্রতিফলিত হয়। আর তখনই চুলে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত চকচকে, পালিশ করা ভাব।
তবে মেথি ব্যবহার করলেই চুলের গঠন বদলে যাবে বা ক্ষতিগ্রস্ত চুল স্থায়ীভাবে মেরামত হবে-এমনটা ভাবা ঠিক নয়। বরং এর মিউসিলেজ চুলে কন্ডিশনিংয়ের মতো প্রভাব তৈরি করে সাময়িকভাবে চুলকে স্মুথ ও গ্লসি দেখাতে পারে।
ডিম ঘরোয়া হেয়ার মাস্কে জনপ্রিয় উপাদান
ডিমে কি ফিরবে চুলের উজ্জ্বলতা?
চুলের সঙ্গে প্রোটিনের সম্পর্ক বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চুলের প্রধান গঠনগত উপাদান কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। আর ডিমে রয়েছে প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিডসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। তাই ঘরোয়া রূপচর্চায় ডিমের হেয়ার মাস্কের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়।বিশেষ করে শুষ্ক ও রুক্ষ চুলে অনেকেই ডিমের মাস্ক ব্যবহার করেন। তবে ডিম খেলে শরীর যে পুষ্টি পায় আর কাঁচা ডিম চুলে লাগালে যে প্রভাব পাওয়া যায়-এ দুটি বিষয় এক নয়।
হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্টে নির্দিষ্ট ফর্মুলেশনের মাধ্যমে প্রোটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যবহার করা হলে চুলের কন্ডিশন ও শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু সরাসরি কাঁচা ডিম চুলে লাগালেই ড্যামেজড চুল ভেতর থেকে মেরামত হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
ঘরোয়া যত্নে ডিম ব্যবহার করতে চাইলে একটি ডিমের সঙ্গে এক টেবিল চামচ দই ও এক চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিতে পারেন। ভেজা চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে ডগা পর্যন্ত লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এরপর শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। ডিমের মিশ্রণ ধোয়ার ক্ষেত্রে খুব গরম পানি এড়িয়ে চলাই ভালো।
গ্লাস হেয়ারের জন্য শেষ কথা মেথির?
শুধু চুলকে নরম, মসৃণ ও চকচকে দেখানোর কথা ভাবলে মেথিই তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকতে পারে। কারণ মেথির মিউসিলেজ চুলে সাময়িক কন্ডিশনিং প্রভাব তৈরি করে, যা চুলকে আরও স্মুথ দেখাতে সাহায্য করতে পারে। আর মসৃণ চুলেই আলো সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়ে তৈরি হয় গ্লাস হেয়ারের মতো।
আরও পড়ুন
ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ ও সতেজ রাখার কৌশল
তবে চুল যদি খুব দুর্বল, শুষ্ক কিংবা সহজেই ভেঙে যায়, তাহলে শুধু ঘরোয়া ডিমের মাস্কের ওপর নির্ভর না করে চুলের প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো মানের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট বা ফোর্টিফায়েড হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা বেশি কার্যকর হতে পারে।
আরও পড়ুন
ত্বক ও চুলের যত্নে নিম, ব্যবহার জানলে মিলবে নানা উপকার
তাই গ্লাস হেয়ারের মতো ঝলমলে চুল পেতে মেথি কিংবা ডিম-যেটিই ব্যবহার করুন, মনে রাখতে হবে এটি সাময়িক সৌন্দর্য বাড়ানোর একটি উপায় মাত্র। চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত কন্ডিশনিং, অতিরিক্ত হিট থেকে সুরক্ষা এবং নিজের চুলের ধরন বুঝে সঠিক যত্নই সবচেয়ে জরুরি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেয়াই