বাগেরহাটের কচুয়ার একই পরিবারের তিন সদস্যের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরকীয়া প্রেমিক জাহিদুল ইসলাম ও তার দুই সহযোগী মিলে আহাদ এবং তার মা ও নানিকে হত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মৃত মজিদ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, সুলতান শেখের ছেলে আসাদুল শেখ ও বারিক হাওলাদারের ছেলে আরিফ হাওলাদার। গ্রেফতারকৃত সবার বাড়ি বাগেরহাটের কচুয়ার চান্দেরকোলা গ্রামে। গ্রেফতারদের কাছ থেকে নিহতদের ব্যবহৃত চারটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে তথ্য প্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর ছিল। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রাম থেকে আসাদুল শেখ নামের আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরিফ হাওলাদার বাবু নামের আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে জাহিদুল নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত আহাদের পরিবারের একজন মহিলা সদস্যের সঙ্গে আসামি জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। যিনি ঢাকাতে কর্মরত। পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক উভয় পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে আহাদের মা নিহত মনিরা বেগমের সঙ্গে আসামি জাহিদুলের ঝগড়াঝাঁটি হয়। এ ঘটনায় জাহিদুলের স্ত্রীর সঙ্গেও পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই প্রেক্ষিতে আসামি জাহিদুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে গৃহবধূ মনিরা বেগম (৫২), তার ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫) এবং মনিরা বেগমের মা রাশিদা বেগমকে (৮৫) হত্যা করে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামের একটি বসতঘর থেকে একই পরিবারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর দুই দিন আগে অর্থাৎ ২ আগস্ট বিকেল থেকে তাদের কোনো খোঁজ ছিল না। এই ঘটনায় নিহত আহাদের বড় ভাই ফয়সাল হাওলাদার অজ্ঞাতনামা আসামি করে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
নাহিদ ফরাজী/কেজে/এএসএম