প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে গিয়ে নিখোঁজ কক্সবাজারের যুবক পার্বন বড়ুয়ার বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও ফার্স্ট সেক্রেটারিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
পার্বনের মা শেলী প্রভা বড়ুয়ার করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।
এ ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ বছরের তরুণ পার্বনের স্বপ্ন ছিল দক্ষ শেফ হয়ে ক্যারিয়ার গড়া। এ স্বপ্ন পূরণের আশায় ধারদেনা করে তিনি দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু সহকর্মীদের রোষানলে পড়ে সেখান থেকে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হন। তার কোনো খোঁজ মিলছে না। এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা-বাবা। সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় আছেন তারা। পার্বন রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মধ্যম মেরংলোয়া বড়ুয়াপাড়া গ্রামের বাবুল বড়ুয়া ও শেলী প্রভা বড়ুয়ার ছেলে।
পার্বন কক্সবাজারের সি-পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা হোটেলে কাজ করতেন। সেখানে তিনি সহকর্মী হিসেবে পান ময়মনসিংহের মিন্টু সাংমাকে। মিন্টু পরে ফিজিতে চলে যান। ২০২৪ সালের ২১ আগস্টে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে ওই দেশে পৌঁছান পার্বন। মিন্টুর সহযোগিতায় তিনি সেখানকার টাপ্পো গ্রুপের নিউইয়র্ক পিজ্জা কিচেনে শেফ হিসেবে যোগ দেন। সেখানে ভারতীয় নাগরিক প্রাভিন ও সুরেন্দ্র শেফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রাভিনের বাসায় সাবলেট থাকতেন পার্বন। পরে সুরেন্দ্র, প্রাভিন ও ম্যানেজার মিন্টুর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে।
আরও পড়ুন
বুয়েট ছাত্র সানি হত্যায় ৪৩ বারের মতো পেছালো তদন্ত প্রতিবেদন জমা
২০২৫ সালের ৬ জুলাই পার্বন তার মাকে ফোন করে জানান, তার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। যে কোনো সময় তাকে হত্যা করা হতে পারে। এ ফোনালাপের পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। পরদিন পার্বনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মিন্টু জানান, হোটেল থেকে পার্বন পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে পার্বনের মামা যতিসেন বড়ুয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হন এবং লিখিত অভিযোগ জানান। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন পার্বনের মা।
ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, আদালত রুল ইস্যু করেছেন। যেহেতু ফিজিতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরার দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই হাইকমিশনার ও ফার্স্ট সেক্রেটারিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পার্বন বড়ুয়া কোথায় আছেন তা তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে।
এফএইচ/একিউএফ