
পাকিস্তানের টিম হোটেলে যেন এক অদ্ভুত যাওয়া-আসার গল্প! কেউ ঢুকছেন, কেউ বের হচ্ছেন। স্যুটকেসের চাকা ঘুরছে, দলে একের পর এক নতুন মুখ। ক্রিকেট দলের ড্রেসিংরুম সাধারণত এমন হয় না। সেখানে স্থিরতা থাকে, পরিচিত মুখ থাকে। পাকিস্তান দলের জন্য এই মুহূর্তটা ঠিক তার উল্টো। অস্থির, খানিকটা অগোছালো আর ভেতরে ভেতরে গভীর হতাশা।
ঠিক এই অবস্থাতেই লাল বলের দলের দায়িত্ব নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ মাইক হেসন। মূলত সাদা বলের দলের দায়িত্বে থাকা এই কোচকে হঠাৎই টেস্ট দলের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। কোচিং স্টাফে পরিবর্তনের পর পিসিবির এমন সিদ্ধান্ত।
পাকিস্তান দলের এবারের ইংল্যান্ড সফরটা শুরু থেকেই উত্তপ্ত। সিরিজের প্রথম দুই টেস্টেই হেরে এখন ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে সফরকারীরা। তৃতীয় টেস্ট সামনে, বার্মিংহামের এজবাস্টনে। তার আগেই দলে বড়সড় রদবদল। একসঙ্গে সাতজন ক্রিকেটার বাদ। নতুন মুখ নিয়ে শেষ চেষ্টা করছে পিসিবি, অন্তত মান–সম্মান বাঁচানোর।

এই সময়ে পাকিস্তান দলের ড্রেসিংরুমের আবহটা কেমন, সেটি জানা হয়ে গেছে এরই মধ্যে বলা হেসনের এককথায়, ‘গত কয়েক দিন বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। একই হোটেলে কেউ আসছে, কেউ যাচ্ছে, এরপর আবার সবাই একসঙ্গে যোগ দিচ্ছে। ছেলেরা হয়তো এই বিশৃঙ্খলায় আমার চেয়ে বেশি অভ্যস্ত। কিন্তু তারাও হতাশ, ভীষণ হতাশ।’
পাকিস্তান ক্রিকেটের এই ঘনঘটার সঙ্গে হেসনের পরিচয় নতুন। টেস্ট দলের দল নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভেতরের খবর বা সাম্প্রতিক জটিলতা নিয়ে তাঁর স্পষ্ট ধারণাও ছিল না। তিনি যে নির্বাচক প্যানেলের অংশ নন, মনে করিয়ে দিয়েছিলেন সেটাও, ‘এ পর্যন্ত আমি পাকিস্তানের লাল বলের ক্রিকেটে কোনোভাবেই জড়িত ছিলাম না। আমি সাদা বলের নির্বাচক প্যানেলে আছি। এই সফরের জন্য দল যখন বাছাই করা হয়, সেখানে আমার কোনো ভূমিকা ছিল না।’

গত সপ্তাহে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড নির্বাচকদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে। ইমাম-উল-হক ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সব মিলিয়ে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। এমন সময় হেসনের ভাবনা পাকিস্তানের চিরচেনা শক্তিতে ফিরে যাওয়ার, ‘আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়া। শুধু এই টেস্ট নয়, আমাদের আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে হবে।’
তিনি মনে করিয়ে দেন, পাকিস্তান বরাবরই পরিচিত গতি, অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন আর রহস্যময় স্পিনের জন্য। কিন্তু এই সিরিজে সেগুলোর ছাপ নেই বললেই চলে। হেসন তাই বলেছেন, ‘আমাদের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনতেই হবে।’

ইংল্যান্ডের কাছে দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। একটিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে, অন্যটিতে ১৯৪ রানে। এই অন্ধকারের মধ্যে একটু আলো হয়ে আছেন মোহাম্মদ আব্বাস। অভিজ্ঞ এই পেসার নিয়েছেন ১০ উইকেট, গড় ২০.৮০। সিরিজে তিনিই পাকিস্তানের সেরা বোলার। হেসনের মতে তাই আব্বাসকে ঘিরে গড়ে তুলতে হবে বোলিং আক্রমণ, ‘আমাদের একটু এক্স-ফ্যাক্টর দরকার। এমন কিছু, যা সুযোগ তৈরি করবে এবং আব্বাসকে সহায়তা করবে। সে দারুণ করেছে।’
হেসনের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য। ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের শেষ টেস্টে নিজেদের ভেঙে পড়া আত্মবিশ্বাসটাকে আবার জোড়া লাগানো। সেটা তিনি পারেন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে।