সম্প্রতি এক ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে শায়খ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়, ‘চোর ধরতে চাল পড়ার কি কোনো সহিহ ভিত্তি আছে? চালপড়া দিয়ে চোর ধরা কি জায়েজ? যারা চালপড়া বা রুটিপড়া দেয়, তারা কি কোনো সহিহ হাদিসের আলোকে এটি করে, নাকি এটি মনগড়া? চালপড়ার জন্য বিশেষ কোনো দোয়া আছে কি না?
উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন,
কেউ চুরি করলে, কোনো অন্যায় বা অপরাধ করলে তা ধরার শরিয়তসম্মত পদ্ধতি হলো সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তা প্রমাণ করা। এটিই শরিয়তের স্পষ্ট বিধান।
কোরআনে করিমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং প্রিয় নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিসে যা পাওয়া যায়, তা হলো, ইসলামি দণ্ডবিধিতে বা বিচারব্যবস্থায় চুরি, ডাকাতি কিংবা যে কোনো অপরাধ প্রমাণ হতে হবে উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা; কোনো চালপড়া বা তেলপড়া দিয়ে নয়।
যে কোনো অপরাধের প্রমাণের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই নীতি প্রযোজ্য—‘আল-বাইয়্যিনাতু আলাল মুদ্দাই’ অর্থাৎ, যিনি দাবি করবেন বা অভিযোগ আনবেন, প্রমাণ পেশ করার দায়িত্ব তাঁরই। সাক্ষী-প্রমাণ হাজির করতে পারলে তাঁর দাবি সাব্যস্ত হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো দাবি বা অভিযোগ অস্বীকার করবে, সে শপথ করে তা অস্বীকার করবে। ব্যাস, এটুকুই। এর বাইরে চালপড়া দিয়ে কোনো কিছু প্রমাণ করা শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ নয়।
আরও পড়ুন
কোর্ট ম্যারেজ কি ইসলামি বিয়ে গণ্য হয়?
আমরা ছোটবেলায় দেখেছি যে বাটি চালান দেওয়া হতো। বাটি চালান দিলে বাটি নাকি অলৌকিকভাবে চোরের ঘরে বা চোরের কাছে চলে যায়, হাতে আটকে যায় ইত্যাদি। এটা শুধু মুসলমান বাটি চালানকারীদের দ্বারাই হয় তা নয়; হিন্দুরাও অনেক সময় বিভিন্ন মন্ত্র পড়ে বাটি চালান দিলে এমন অলৌকিক কাণ্ডকীর্তি দেখায়।
মনে রাখতে হবে, অলৌকিকত্ব দিয়ে সব সময় সত্য-অসত্য নিরূপণ করা যায় না। অনেক সময় জাদুটোনা বা শয়তানের প্রভাবেও অলৌকিক কিছু প্রকাশ পেতে পারে। কাফেরের মাধ্যমেও অলৌকিক কোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই অলৌকিক কিছু দেখলেই তাকে আল্লাহর ওলি মনে করা, নেককার ভাবা কিংবা সেটাকে আল্লাহর তরফ থেকে মনে করার কোনো কারণ নেই।
তাই বাটি চালান বা চালপড়া দিয়ে যদি অলৌকিকভাবে কোনো কিছু ঘটেও, ইসলামি শরিয়তের আদালত সেটিকে ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করবে না এবং করার সুযোগও নেই। আমাদেরও ওই ব্যক্তিকে অপরাধী মনে করা উচিত নয়। সে দোষী হতেও পারে, আবার নির্দোষও হতে পারে তা ফয়সালা হবে কেবল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে, বাটি চালান বা চালপড়া দিয়ে নয়।
আরও পড়ুন
জুলেখা কি যৌবন ফিরে পেয়েছিলেন?
যেহেতু এই পুরো প্রক্রিয়াটিই শরিয়তসম্মত নয়, তাই এর জন্য বিশেষ কোনো দোয়া থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। ইসলামে চালপড়ার কোনো দোয়া নেই, তবে চাল খাওয়ার দোয়া আছে—‘বিসমিল্লাহ’ বলে আল্লাহর নামে চাল বা ভাত খেয়ে ফেলতে পারেন! কিন্তু চালপড়া বা বাটি চালানের কোনো ইসলামি দোয়া নেই।
ওএফএফ