ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর হত্যা মামলায় নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ মামলায় অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তারের পর এখন অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর পর থেকেই এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড-এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত বিষয়টি হত্যা মামলায় গড়ায়।
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমবার হত্যা মামলা করার আবেদন করা হয়েছিল ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই। এরপর দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করে। তবে সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার পরিবার।
পরে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন বাতিল ও নতুন করে তদন্তের দাবিতে আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পথ তৈরি হয়।
এরপর সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের নামও রয়েছে। অবশেষে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আরও পড়ুন
এআই দিয়ে তৈরি গান নিয়ে যা বললেন জেমস
গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডনের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর সালমান শাহ হত্যা মামলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা গেলেও এখনো সব আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠছে।
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ডনের গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, ডন দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন নীলা চৌধুরী।
নীলা চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, সালমান শাহ ডনকে চলচ্চিত্রে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং তাকে পরিচিত করে তুলতে সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি মনে করেন, সালমান শাহ বেঁচে থাকলে দেশের চলচ্চিত্রে আরও বড় পরিবর্তন আনতে পারতেন। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনায় আসারও ইচ্ছা ছিল তার।
অন্যদিকে গ্রেপ্তারের আগে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে ডন দাবি করেছিলেন, সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অভিযোগ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যেই কথা বলতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, তিনি কোনো ভয় পান না এবং আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
ডন গ্রেপ্তারের পর এখন মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেটিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদের অবস্থান কী এবং তাদের কবে আইনের আওতায় আনা হবে-তা নিয়েও সালমান শাহর পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবিতে তার ভক্তরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। মৃত্যুর বার্ষিকীতে যশোরেও মানববন্ধন করে দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
‘বড় ছেলে’র ৯ বছর, এখনো চোখ ভেজায় অপূর্ব-মেহজাবীনের সেই দৃশ্য
প্রায় ৩০ বছর ধরে নানা প্রশ্ন ও আইনি জটিলতার মধ্যে থাকা সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা এখন হত্যা মামলার তদন্তে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ডনের গ্রেপ্তারের পর তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
এমএমএফ