নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। একই সঙ্গে সংকটের সময়ে নেপালের পাশে থাকার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নেপালের রাষ্ট্রদূত। এ সময় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসহ পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
নেপালে বন্যায় হাজারো মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, শোকাবহ এ সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপালের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।
বাংলাদেশের এই সহমর্মিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে বাংলাদেশের সংহতি ও সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। নেপালের সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের এ সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
আরও পড়ুন
নেপালে বন্যায় শত শত প্রাণহানিতে বাংলাদেশ সরকারের শোক, সহায়তার আশ্বাস
বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় হয়। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনের ভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখে থাকলেও দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
হিমালয়ের বরফ ও হিমবাহের পরিবর্তন, নদী অববাহিকার পরিবেশগত ভারসাম্য, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত দুর্যোগের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকায় পড়ে উল্লেখ করে আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন পরিবেশমন্ত্রী।
রাষ্ট্রদূত পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সক্ষমতা বিনিময় বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ-নেপালের সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচটি/এমএমকে