বাবা-মার অবহেলা রোধে কড়া বার্তা দিয়ে এবং পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বাবা-মার সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নিয়ে তাদের বৃদ্ধাশ্রমে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনা আমাদের আত্মাকে ভেঙে দেয়। এই বাস্তবতায় তিনি বাবা-মার ভরণপোষণ আইন আরও কঠোর করার পাশাপাশি চার দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাঈলের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘তোমরা আমার ইবাদত করো এবং তোমার পিতা-মাতার খেদমত করো। যদি তাদের একজন কিংবা উভয়ই তোমার বেঁচে থাকা অবস্থায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাদেরকে ‘উফ’ শব্দটিও বলো না।’
সংসদে বর্তমান সামাজিক চিত্র তুলে ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্তানরা বড় বড় দালানকোঠার মালিক হয়ে বাবা-মার সম্পত্তির দখল নেয়। অনেক সময় বাবা-মাকে চাপ প্রয়োগ করে সম্পত্তি লিখে নেওয়া হয়, আর তখন বাবা-মার ঠাঁই হয় ওই বহুতল ভবনের কোণায় কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে। সন্তান কর্তৃক বাবা-মায়ের অবহেলার এই চিত্র অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
এ সময় রুমিন ফারহানা আইনের কার্যকারিতা বাড়াতে চার দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। ভরণপোষণে অবহেলা করলে দানপত্র বাতিলের একতরফা অধিকার এই আইনে দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিধান যোগ করার দাবি জানান, যাতে সন্তান অবহেলা বা নির্যাতন করলে দাতা এককভাবে রেজিস্ট্রি দলিল বাতিলের জন্য পারিবারিক আদালতে আবেদন করতে পারেন। সন্তান যেন তৃতীয় পক্ষের কাছে জমি বন্ধক দিয়ে বাবা-মাকে তার দায় টানতে বাধ্য করতে না পারে বা বাড়ি থেকে বের করে দিতে না পারে, সে বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপের কথা বলেন। দাতার জীবদ্দশায় তার লিখিত সম্মতি ছাড়া ওই সম্পত্তি কোনো ব্যাংকে রেখে ঋণ গ্রহণ বা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি।
জেলা জজের দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে ৬০ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে জরুরি চিকিৎসা বা আর্থিক প্রয়োজনের অনুমতি প্রদানের জন্য সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত বিচার পদ্ধতি (সামারি ট্রায়াল) চালুর আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য।
এমওএস/এসএনআর