সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) ছাড়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ডিও লেটারে কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. মুজিবুর রহমান।
সেই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তুলেছেন, সরকারিদলীয় সদস্যদের সন্ত্রাসের ভয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা কিছু বলতে চান না। এমন সন্ত্রস্ত পরিবেশে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে বিশেষ অধিকার প্রশ্নের কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৪ বিধিতে দেওয়া দুটি নোটিশে এসব অভিযোগ করেন মুজিবুর রহমান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
জাতীয় সংসদে দেওয়া ডেপুটি স্পিকারের বর্ণনায় প্রথম নোটিশে মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে তার নির্বাচনি এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া শতাধিক ডিও লেটার বাদ দিয়ে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের মাধ্যমে কাজ করানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটার ছাড়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ডিও লেটার বাস্তবায়ন করা যাবে না।
নোটিশে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারিদলীয় সদস্যদের সন্ত্রাসের ভয়ে কোনো কিছুই বলতে চাচ্ছেন না। এমন সন্ত্রস্ত পরিবেশে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। অধিকারহারা সদস্যদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করার প্রত্যাশা জানানো হয় নোটিশে।
আরও পড়ুন
দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা
ডেপুটি স্পিকারের সংসদে তুলে ধরা বর্ণনা মতে, দ্বিতীয় নোটিশে মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন যে প্রচলিত নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি নিয়োগের জন্য প্যাডে লিখিত ডিও লেটার দিতে হয়। সে অনুযায়ী রাজশাহী-১ আসনের গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠানেও তার সুপারিশ অনুযায়ী সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
দুটি নোটিশের বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় সদস্যের নোটিশ দুটির বিষয় প্রায় একই ধরনের।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংসদীয় এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা একজন জনপ্রতিনিধির অন্যতম লক্ষ্য। নির্বাচিত ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য উভয়েই এ লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করতে পারেন। দুজন সংসদ সদস্য যাতে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে পারেন, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট থাকবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি। একই এলাকায় একজন সদস্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে অন্যজনকে যেন গুরুত্বহীন না করা হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই দৃষ্টি রাখবেন।’
তবে বিষয়টি সংসদের হস্তক্ষেপের উপযোগী নয় বিধায় মুজিবুর রহমানের দুটি নোটিশই বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের প্রশ্ন হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। এজন্য ডেপুটি স্পিকার আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এমওএস/একিউএফ